সড়কের এক পাশে সারি করে সাজানো কাঁঠাল। কাঁঠালের স্তূপের পাশে বসে আছেন বিক্রেতা। কাঁঠাল হাতে নিয়ে তিনি বলছেন, প্রতিটির দাম মাত্র পাঁচ টাকা। এত অল্প দামে কাঁঠাল বিক্রির ঘোষণা দিলেও ক্রেতা না পাওয়ায় আক্ষেপ ঝরছিল তাঁর কণ্ঠে।
কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে এমন একটি ভিডিও। ভিডিওটি ধারণ করা হয় চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের পাইকারি ফলের আড়তে। আর যিনি পাঁচ টাকায় কাঁঠাল বিক্রির ঘোষণা দেন, তাঁর নাম মোহাম্মদ মাসুদ। ওই এলাকার পাইকারি দোকান থেকে ফল কিনে বিক্রি করেন তিনি।
ভিডিওতে বলা কাঁঠালের দাম যাচাইয়ে গেলে মোহাম্মদ মাসুদকে ওই এলাকায় পাওয়া গেল। ৫ টাকায় কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন তিনি। তারপর বললেন, ‘এখন আর ৫ টাকার কাঁঠাল নেই। এখন কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। বাজার পুরো বদলে গেছে। বৃষ্টি পড়ায় কাঁঠালের দাম বেড়েছে।’
মাসুদের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন দু-তিনজন ক্রেতা। ভিডিও দেখে তাঁরাও আসেন পাঁচ টাকায় কাঁঠাল কিনতে। তাঁদেরই একজন শাহিনূর ইসলাম। নগরের জিইসি এলাকা থেকে কাঁঠাল কিনতে এসেছেন তিনি। ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে না শুনে বেশ বিরক্তি তিনি। শাহিনূর বলেন, ‘ভিডিও দেখে ভেবেছিলাম, কাঁঠালের দাম অনেক কমে গেছে। এখানে এসে দেখি, ঘটনা উল্টো। ৫ টাকার কাঁঠাল তো দূরের কথা, ১৫০ টাকার নিচেও কিছু নেই।’
মাসুদ জানান, অনেকেই প্রতিদিন তাঁর কাছে আসেন। বেশির ভাগই ফেসবুকের ভিডিও দেখে আসেন। এরপর ৫ টাকার কাঁঠাল না পেয়ে বিস্মিত হন, কেউ কেউ বিরক্তিও প্রকাশ করেন। তবে আসলেই পাঁচ টাকায় তিনি কাঁঠাল বিক্রি করেছিলেন। পবিত্র ঈদুল আজহার বন্ধের কয়েক দিন এমন দাম ছিল। ক্রেতা না পাওয়া ফেলে দেওয়ার চাইতে পাঁচ টাকা লোকসান দিয়ে হলেও মানুষকে কাঁঠাল খাওয়াতে চেয়েছেন তিনি।
মাসুদ জানান, শাহিনুরের মতো অনেকেই প্রতিদিন তাঁর কাছে আসছেন। বেশির ভাগই ফেসবুকের ভিডিও দেখে আসেন। এরপর ৫ টাকার কাঁঠাল না পেয়ে বিস্মিত হন, কেউ কেউ বিরক্তিও প্রকাশ করেন। তবে আসলেই পাঁচ টাকায় তিনি কাঁঠাল বিক্রি করেছিলেন। পবিত্র ঈদুল আজহার বন্ধের কয়েক দিন এমন দাম ছিল। ক্রেতা না পাওয়ায় ফেলে দেওয়ার চাইতে পাঁচ টাকা লোকসান দিয়ে হলেও মানুষকে কাঁঠাল খাওয়াতে চেয়েছেন তিনি। তবে এখন ছুটির পর শহরে লোকজন আসায় আর বৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা বেড়েছে। তাই কাঁঠালের দামও বেড়েছে। তিনি কোনো অসততা বা মিথ্যার আশ্রয় নেননি। মাসুদ বলেন, ‘ঈদের সমত কাট্টলর বেচাকেনা মাডির লগে মিশি গেইল গই। মাইনষে ব্যস্ত আসিল গোস্ত লই। কাট্টল কেউ ন কিনে। মোট ৬০ হাজার টেঁয়া লোকসান দিয়ি।’
কথা বলতে বলতে তিনি পাশের একটি কাঁঠালের স্তূপের দিকে দেখালেন। সেখানে কয়েক শ কাঁঠাল পড়ে আছে। বেশির ভাগের গায়ে কালচে দাগ। কয়েকটি ফেটে গেছে। কিছু কাঁঠাল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মাসুদ বলেন, এগুলো আর বিক্রি করা যাবে না। সময়মতো ক্রেতা না পাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অন্তত এক সপ্তাহ আগের। তখন বাজারে ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।
নগরের বিআরটিসি এলাকার ফলমন্ডির কয়েক শ গজ দূরেই এই আড়তের অবস্থান। তবে ফলমন্ডিতে আম, লিচু, কমলা, মাল্টা, পার্সিমন আর ড্রাগনের মতো দামি ফল বিক্রি হয়। অন্যদিকে স্টেশন রোডের এই আড়তে কম দামের মৌসুমি ফল কাঁঠাল আর আনারসের বিক্রিই বেশি। শহরের নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষই সেখানকার বড় ক্রেতা। ঈদের ছুটিতে এই শ্রেণির মানুষের একটি বড় অংশ গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় আড়তটি প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণেই লোকসান গুনতে হয়েছে মোহাম্মদ মাসুদকে।
পুরোনো রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই সারি সারি ফলের আড়ত। সেখানে কাঁঠাল, আনারস আর কলার স্তূপ। মোহাম্মদ মাসুদের মতো ১৫-২০ জন খুচরা বিক্রেতা আড়ত থেকে ফল কিনে সামনের রাস্তায় বিক্রির জন্য বসে যান। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। অধিকাংশ ক্রেতা পথচারী। আবার ভ্যানে করে যাঁরা ঘুরে ঘুরে ফল বিক্রি করেন, তাঁরাও এখান থেকে কাঁঠাল আর আনারস সংগ্রহ করেন। নগরের বিআরটিসি এলাকার ফলমন্ডির কয়েক শ গজ দূরেই এই আড়তের অবস্থান। তবে ফলমন্ডিতে আম, লিচু, কমলা, মাল্টা, পার্সিমন আর ড্রাগনের মতো দামি ফল বিক্রি হয়। অন্যদিকে স্টেশন রোডের এই আড়তে কম দামের মৌসুমি ফল কাঁঠাল আর আনারসের বিক্রিই বেশি। শহরের নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষই সেখানকার বড় ক্রেতা। ঈদের ছুটিতে এই শ্রেণির মানুষের একটি বড় অংশ গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় আড়তটি প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণেই লোকসান গুনতে হয়েছে মোহাম্মদ মাসুদকে।
স্টেশন রোডের কয়েকজন ফল ব্যবসায়ীর সঙ্গেও কথা হয়। তাঁরা জানান, ঈদের ছুটিতে ক্রেতারা বাড়ি চলে গেছেন। তাই কাঁঠালের চাহিদা কমে গিয়েছিল; কিন্তু ঈদের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। বাজারে এখন ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ভালো মানের কাঁঠালের চাহিদা আছে। তাই দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট আকারের কাঁঠাল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের কাঁঠালের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বড় আকারের কাঁঠালের দাম উঠেছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে কাঁঠালের অভাব নেই। দামও হাতের নাগালে। চাহিদাও আছে।