রাকাব সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে রংপুর বিভাগের বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ উপজেলাসহ ৮ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা সদরের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) বিভিন্ন শাখায় ৩১৭ জনকে ওই সিকিউরিটি সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় নিয়োগ পেয়েছেন ৩৬ জন। কর্মীদের অভিযোগ, ওই সিকিউরিটি সার্ভিস শুধু জামানত বাবদ তাঁদের কাছ থেকে নিয়েছে ৭৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২ দফায় ৫০ হাজার করে চাকরির নবায়ন ফি বাবদ নিয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ টাকার কোনো রসিদ তারা দেয়নি।

কর্মীদের বেতন ১৪ হাজার ২৫ টাকা। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জ ভ্যাট ও উৎস্যে কর কর্তনের পরে তাঁরা পাচ্ছেন ১১ হাজার ৪০০ টাকা। এ টাকা কৃষি ব্যাংক বহন করে।

রংপুরে বদরগঞ্জের দক্ষিণ বাওচণ্ডী খিয়ারপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল রানা ওই সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বদরগঞ্জে রাকাবের নাগেরহাট শাখায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান। তাঁর অভিযোগ, চাকরির শুরুতে জামানতের নামে ওই প্রতিষ্ঠান বিনা রসিদে ২৫ হাজার টাকা নেয়। ২০২১ সালে চাকরি নবায়নের নামে তাঁর কাছ থেকে পুনরায় ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বিনা রসিদে। এরপর ওই সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান চিঠি দিয়ে রাকাবের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে শনিবার তাঁকে পুনরায় ডাকেন। জুয়েল রানা দেখতে পান, রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় রাকাবের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত শতাধিক কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদেরও একই কারণে ডাকা হয়েছে।

জুয়েল রানার অভিযোগ, কর্মীদের সাক্ষাৎকারের নামে ডেকে ২৫ হাজার করে টাকা নেওয়া শুরু করেন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান সরকার। টাকা দিতে না চাওয়া কর্মীদের ওই সুপারভাইজার চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

অভিযোগ পেয়ে শনিবার বেলা তিনটার দিকে রাকাবের ওই বিভাগীয় কার্যালয়ে যান এই দুই প্রতিবেদক। তখন মনিরুজ্জামান বিনা রসিদে কর্মীদের কাছে টাকা নিচ্ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাঁদের চাকরির মেয়াদ ৩ বছর পেরিয়েছে, তাঁদের পুনরায় চাকরি করতে নবায়ন ফি বাবদ ২৫ হাজার করে টাকা দিতে হয়।

এ টাকা নিতে আমাকে পাঠিয়েছেন পরিচালক (অরনেট সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক)। টাকা নিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান কোনো রসিদ দেয় না। চাকরির শুরুতে দেওয়া জামানতের ২৫ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য।’ কথা বলার একপর্যায়ে তিনি কর্মীদের বাড়ি চলে যেতে বলে স্থান ত্যাগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে অরনেট সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিনা রসিদে জামানত কিংবা নবায়ন ফির টাকা নেওয়া ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে অবশ্যই রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হবে। কর্মীরা সবাই ২৫ হাজার করে নবায়ন ফির টাকাও দেন না। প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী নবায়ন ফি দিয়ে কর্মীদের পোশাক ও আনুষঙ্গিক খাতে খরচ করা হয়। আর জামানতের ২৫ হাজার করে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

অন্তত ২০ জন কর্মী জানান, চাকরিকালে তাঁদের কখনো পোশাক কিনে দেয়নি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নবায়ন ফি না দেওয়ায় ইতিপূর্বে ২০-২৫ জনের চাকরি চলে গেছে। তাঁদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রাকাব রংপুরের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা তাঁদের চাকরির নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা না দেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের ব্যাংকের করণীয় কিছু নেই।’