সরকার ভোজ্যতেল আমদানিতে অনেক টাকা ব্যয় করছে দাবি করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আড়াই বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয় ভোজ্যতেল আমদানিতে। এটা অনেকেই বিশ্বাসই করবে না। ছয়-সাত লাখ টন ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব ফসলে আগে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন করতে হবে। এ জন্য বিজ্ঞানীরা অনেকগুলো শর্ষের জাত নিয়ে এসেছেন। এগুলো ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে তোলা যায়। তবে এ জন্য বোরোর উৎপাদন কমবে না।

বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই ব্যয় আরও বেড়েছে দাবি করে মন্ত্রী দেশেই ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশে চাহিদার ১০ ভাগ তেল উৎপাদিত হয়। সেটা বাড়িয়ে ৪০ ভাগ করতে হবে। এটা ধানের উৎপাদনের পর করা যায়। এটা কৃষকের অতিরিক্ত আয়। যেখানে যেখানে সম্ভব শর্ষের আবাদ করতে হবে। কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক করা গেলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

ধানের পাশাপাশি শর্ষের উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ধানের উৎপাদন আজকে বেড়েছে। ৭৪ ভাগ জমিতে ধানের চাষ হয়। মূলত আমাদের কৃষি ধানভিত্তিক। আমাদের তৈল, ডাল, আলু, শাকসবজি, ফলমূল খাদ্য। আগে চালকুমড়া হতো চালে, এখন হয় মাঠে। লাউ হতো জাঙলায়, এখন হয় মাঠে। ধানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। আজকে এখানে এসেছি শর্ষের উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলতে। শর্ষের উৎপাদনও বাড়াতে হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ কর্মশালা চলে। কর্মশালায় টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিবিষয়ক পাঁচটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবীর। কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মোট চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন