বরগুনা পৌর শহরের ২৮ শতাংশ সড়ক বেহাল

ভাঙাচোরা সড়কে অটোরিকশা চলাচল করছে। গত শনিবার বরগুনা পৌর শহরের আমতলার পাড় সড়কেছবি: প্রথম আলো

বরগুনা পৌর শহরের ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। সে হিসাবে শহরের মোট পাকা সড়কের প্রায় ২৮ শতাংশ বেহাল। এসব সড়কে যানবাহন চলে হেলেদুলে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষ।

বরগুনা পৌরসভা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার ৮৭৫ জন মানুষের বসবাস। মোট ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে শহরের আমতলার পাড় সড়ক, বটতলা সড়ক, ডিকেপি সড়ক, দিঘিরপাড় সড়ক, কড়ই সড়ক, টাউন হল সড়ক, কেজি স্কুল সড়ক, কাঠপট্টি সড়ক, আবুল হোসেন ঈদগাহ সড়ক, চরকলোনি সড়ক, পোস্ট অফিস সড়ক, পশু হাসপাতাল সড়ক, জেলা বিএনপি কার্যালয় সড়কসহ কয়েকটি সড়কের অবস্থা খারাপ। অন্তত ১৪টি পাকা সড়কে পিচঢালাই উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। সড়কগুলো দিয়ে সাধারণত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করে।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিন শহরের পোস্ট অফিস সড়কের এক পাশ দেবে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়। সড়কটি ১৫ বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। বটতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া উঠে গেছে। আমতলার পাড় সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এ সড়ক প্রায় আট বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। আর আবুল হোসেন ঈদগাহ সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। এর আগে গত শনিবার অন্তত ১০টি সড়ক ঘুরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের চিত্র চোখে পড়ে। এসব সড়ক কোনোটি এক কিলোমিটার, আবার কোনোটি আধা কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দিঘিরপাড় সড়কের। এ সড়কের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ধসে গেছে।

আমার বাসা-সংলগ্ন সড়কটি ধসে দিঘিতে পড়ে গেছে। দেবে যাওয়া অংশে জমে আছে পানি। এ কারণে সড়কটি দিয়ে আমাদের চলাচল বন্ধ আছে কয়েক বছর। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
মিজানুর রহমান, বাসিন্দা, দিঘিরপাড় এলাকা

দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার বাসা-সংলগ্ন সড়কটি ধসে দিঘিতে পড়ে গেছে। দেবে যাওয়া অংশে জমে আছে পানি। এ কারণে সড়কটি দিয়ে আমাদের চলাচল বন্ধ আছে কয়েক বছর। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। আমরা বাধ্য হয়ে অন্য সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করছি।’
কয়েক বছর ধরেই আমতলার পাড় সড়ক বেহাল। এ এলাকার দুজন বাসিন্দা জানান, আমতলার পাড় সড়কটির শুরু থেকে প্রায় এক হাজার ফুট পর্যন্ত পিচঢালাই উঠে গেছে, বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গর্ত।

শহরের কেজি স্কুল এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। শহরের অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চালিয়ে তাঁর দিন পার হয়। ইদ্রিস বলেন, প্রতিদিন অটোরিকশা কোথাও না কোথাও গর্তে আটকে যায়। এখন আর ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতেও মন চায় না, কিন্তু বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে গাড়ি চালাতে হয়।

সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। গত শনিবার বরগুনা পৌর শহরের দিঘিরপাড় এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

শহরের চরকলোনি সড়ক এলাকার বাসিন্দা নুরুল আহাদ। তিনি জানান, প্রায় দেড় যুগ আগে চরকলোনি সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ছয় বছর ধরেই সড়কটি ভাঙাচোরা। অথচ এই এলাকা শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার ধরনা দিয়েও সংস্কারকাজ করানো যায়নি।

বরগুনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভায় ১০১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার অংশ ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন।

এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কগুলোর অবস্থায় আরও খারাপ হয়েছে। ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। বিশেষ করে অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে জীবকা নির্বাহ করা মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

অন্তত ১৪টি পাকা সড়কে পিচঢালাই উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। সড়কগুলো দিয়ে সাধারণত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করে।

বরগুনা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সজল চন্দ্র শীল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বরগুনা পৌর শহরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার বা পুর্নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্পে ১২ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে ইতিমধ্যে ঠিকাদারও চূড়ান্ত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হবে।

স্থানীয় নাগরিক সংগঠন বরগুনা জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভার অনেক সড়ক বেহাল। এসব সড়ক দিয়ে চলাচলে মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। সড়কগুলোর সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।