দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া বিএনপির সবশেষ সম্মেলন হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে। তখন সাইফুল ইসলামকে সভাপতি এবং জয়নাল আবেদীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৯ সালের ১৫ মে ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে গোলাম মো. সিরাজকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। গত বছরের ১৩ নভেম্বর সিরাজকে সরিয়ে বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিমকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২ নভেম্বর বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের কাউন্সিলরদের তালিকায় নেই বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজও। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা বিএনপির নানা কর্মসূচিতে এখনো সক্রিয় সিরাজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অনেক ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছিল। আহ্বায়ক পদ থেকে সরে আসার পর সেই কমিটিও পরিবর্তন করার অভিযোগ আসছে। কাউন্সিলর তালিকায় নিজের নামটাও খুঁজে না পেয়ে হতবাক হয়েছেন। অনেক জ্যেষ্ঠ এবং ত্যাগী নেতার নাম এ তালিকায় নেই।

অনিচ্ছাকৃত ভুলে কাউন্সিলর তালিকায় দু–একজন নেতার নাম বাদ পড়েছে। এখন আর অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই।
মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র ও দলীয় রেওয়াজ অনুযায়ী দলীয় সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার উপজেলা বা পৌর কমিটির ১ নম্বর কাউন্সিলর হওয়ার কথা। কিন্ত গোলাম মো. সিরাজের নাম বগুড়া সদর বা শহর কমিটিতে নেই। একইভাবে উপজেলা ও পৌর ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনে সভাপতি কিংবা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া নেতাদের সহসভাপতি বা যুগ্ম সম্পাদক পদে রাখা হয়। কিন্ত সিংহভাহ ইউনিটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যাওয়া নেতাদের কমিটিতেই রাখা হয়নি। এভাবে একাংশের নেতাদের বাদ রেখে কাউন্সিলরের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভাসহ বগুড়া জেলা বিএনপির ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিট। এর মধ্যে ২২টি ইউনিট থেকে ১০১ জন করে ২ হাজার ২২২ জনকে কাউন্সিলর করা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন সেলিম রানা। তাঁকে কাউন্সিলর তালিকায় হয়নি। তালোড়া পৌর বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করে হেরে যান আনোয়ার হোসেন। তাঁকেও তালিকায় রাখা হয়নি।

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্সিলর তালিকায় নাম নেই অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগমের। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দল জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি। কাউন্সিলর তালিকায় জায়গা না হওয়া নেতাদের মধ্যে আরও আছেন বগুড়া-২ আসনের বিএনপি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা একেএম হাফিজুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মোল্লা ও ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম, দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র ও সাবেক বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সরকার বাদল, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার, নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম মাসুদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান ও সুজাউদ্দোলা সাজু প্রমুখ।

কাউন্সিলর তালিকায় নাম নেই জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বগুড়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র দাস, ১ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শাহ মেহেদী হাসান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির। তাঁদের অনেকেই বগুড়া শহর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের সর্বশেষ কমিটির শীর্ষ পদে ছিলেন।
বগুড়া শহর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ রানা বলেন, দুর্দিনে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা শহর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁকে ষড়যন্ত্র করে দলে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলে কাউন্সিলর তালিকায় দু–একজন নেতার নাম বাদ পড়েছে। এখন আর অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভাসহ বগুড়া জেলা বিএনপির ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিট। এর মধ্যে ২২টি ইউনিট থেকে ১০১ জন করে ২ হাজার ২২২ জনকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। ধুনট উপজেলা ও পৌর শাখার সম্মেলন না হওয়ায় দুই ইউনিট থেকে একজনকেও কাউন্সিলর করা হয়নি।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। অথচ কাউন্সিলর তালিকায় নাম নেই। এটা ষড়যন্ত্র। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত কাউন্সিলর তালিকার মাধ্যমে ‘পকেট কমিটি’ করার ষড়যন্ত্র করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্ত কাউন্সিলর তালিকা সংশোধন হয়নি।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল, সব সাংগঠনিক ইউনিটে আহ্বায়ক পদে থাকা ব্যক্তিরা সম্মেলনে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে পারবেন না। এই নির্দেশনা মেনে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর ও উপজেলা কমিটিতে আহ্বায়কেরা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হননি। অথচ রেজাউল করিম আহবায়ক পদে থেকে কাউন্সিলর তালিকা তৈরির পর পদত্যাগ করে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন।

তবে রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আহবায়ক পদে থেকে সভাপতি প্রার্থিতায় কোনো বাঁধা নেই। তবুও স্বচ্ছতার জন্যই আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন।

সম্মেলনে সভাপতি পদে আরও প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সহসভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম আর ইসলাম।