বাগেরহাটে গুলিতে নিহত তরুণের দাফন সম্পন্ন, তাঁর বিরুদ্ধেও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ
বাগেরহাটের চিতলমারীতে গুলিতে নিহত কলেজছাত্র আমির হামজার (২৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শিবপুরে গ্রামে বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে ঢুকে আমির হামজাকে ধাওয়া দিয়ে গুলি করে হত্যা করে একদল লোক। এ ঘটনায় নিহত তরুণের মা মেহেরুন নেসা নাছরিন বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় মামলা করেছেন। এতে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার বাইরে।
নিহত আমির হামজা পরিবারের সঙ্গে খুলনা নগরের লবণচরা থানার জিন্নপাড়া এলাকায় থাকতেন। তাঁর বাবার নাম রুহুল আমিন মুন্সি। চিতলমারীর শিবপুরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি। প্রায় ২০ বছর আগে পরিবার নিয়ে খুলনায় বসবাস শুরু করেন রুহুল আমিন।
নিহত তরুণের পরিবার জানায়, আমির হামজা খুলনার সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন। দুই মাস আগে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন হামজা। এর পর থেকে তিনি ঢাকায় থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনার একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে আমির হামজার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলাও রয়েছে। খুলনায় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিকবার। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি খুলনার রূপসা উপজেলার তালিমপুর কদমতলা এলাকার আবদুল বাছেদকে (বিকুল) গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন হামজা।
এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহত তরুণের পরিবারের কেউ কথা বলতে চাননি
প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় কথা বলতে রাজি হননি। আজ সকালে শিবপুরে গ্রামে নিহত তরুণের ছোট ভাই আরমান মুন্সির সঙ্গে কথা বলার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা তাঁকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, এ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যার মতো এমন ঘটনা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি বা শোনেননি। হামজাকে হত্যার জন্য অন্তত ১০-১২ জনের একটি দল আসে। দুই-তিন আলাদা দলে ভাগ হয়ে বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেয়। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যা করে নির্বিঘ্নে তারা চলে যায়।
আজ শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে অবস্থান করা একজনকে ফোনে হামলাকারী হিসেবে কয়েকজনের নাম বলতে শোনা যায়। তাঁরা খুলনার রূপসা থেকে আসছেন বলেও ওই ব্যক্তি বলছিলেন। তবে এ নিয়ে তিনি কথা বলতে চাননি।
নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই আরমান মুন্সি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে আমরা গ্রামের বাড়িতে আসি। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগমুহূর্তে আমরা বাড়ির উঠোনে ছিলাম। হঠাৎ করে একজন গামছা বিক্রির ছদ্মবেশে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। এর পরক্ষণেই হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত আরও দুইজন বাড়িতে ঢোকার পথে এসে দাঁড়ায়। পরে আরও দুজন ভেতরে ঢোকে। তাদের একজনের হাতে ওয়াকি–টকি ছিল। সবার কাছে পিস্তল ছিল। একজনের হাতে শটগান ছিল। তারা পুলিশ পরিচয় দেয়। আমার ভাই (হামজা) ঘরের মধ্যে চলে যাচ্ছিল। তারা আমার ভাইকে দাঁড়াতে বলে। তার ব্যবহৃত ফোন দুটি নিয়ে নেয়। আমার ভাই দৌড়ে ছাদে চলে যায়। তারাও পেছন পেছন যায়। ছাদ থেকে লাফিয়ে সে রান্নাঘরের চালে এবং পরে পাশের চিত্রা নদীর মধ্যে পড়ে। সেখানেই তাকে গুলি করা হয়। আমাকেও ধাওয়া করা হয়। আমি পালিয়ে যাই।’
আরমান মুন্সির সঙ্গে কথা বলার সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়ির ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমির হামজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।