ফরিদপুরে পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত দাবি বিএনপি নেতার

এ কে এম কিবরিয়াছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্ত দাবি করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি তাঁর ফেসবুকে আইডি থেকে এ–সংক্রান্ত একটি লেখা পোস্ট করেন।

গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একদল সদস্য ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের কাছে মাদক পাওয়ার অভিযোগে তাঁকে বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়। ইশতিয়াক মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী। পরিবারের দাবি, আটকের সময় মায়ের সামনেই ইশতিয়াককে মারধর করা হয়েছিল। পরদিন রোববার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবির হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে এ কে এম কিবরিয়া লেখেন, ‘ফরিদপুর জেলায় একজন আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পূর্বে তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল কি না জানি না। পুলিশ বলছে, মাদকসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু রাতে অসুস্থ হয়ে ছেলেটা মারা যাওয়ার পরে পুলিশ সুপারের বক্তব্য ও শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশের বক্তব্য হুবহু মিলে যায়।’

ফ্যাসিবাদী আমলের পুলিশি বয়ান মানুষ ঘৃণার চোখে দেখত মন্তব্য করে কিবরিয়া বলেন, ‘আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকারের পুলিশের বয়ান অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে।’ স্ট্যাটাসের শেষে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি করে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

ইশতিয়াকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গত রোববার ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তাঁর শরীরে কোনো ধরনের জখমের চিহ্ন ছিল না। পুলিশের হেফাজতে তাঁকে কোনো ধরনের আঘাত বা শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা–খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে বেলা সোয়া দুইটার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে শুধু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যাহার বা চাকরিচুত্যিই বড় কথা নয়, মূল কথা হলো, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে আগামী দিনে এ–জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।

আরও পড়ুন