সরেজমিন দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জের চীন মৈত্রী প্রথম সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে হাসনাবাদ এলাকা ও দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে কদমতলী এলাকায় অস্থায়ী চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। তারা যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি করছে। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জের কদমতলী, ইকুরিয়া, আবদুল্লাহপুর, জিনজিরা জনি টাওয়ার, কোনাখোলা, আঁটিবাজার ও ঘাটারচর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দলকে টহল দিতে দেখা গেছে।

মাদারীপুর থেকে আসা আনন্দ পরিবহনের যাত্রী আসলাম মিয়া বলেন, ‘কাজের জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলাম। বাসটি কদমতলী এলাকায় এলে পুলিশ আমাদের নামিয়ে দেয়। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।’

যমুনা পরিবহনের চালক সালাম মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর থেকে যাত্রী নিয়ে কদমতলী এলাকায় আসার পর পুলিশ বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। তখন বুড়িগঙ্গা সেতু দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে তাঁরা বাধা দেন। বাধ্য হয়ে মাওয়ার দিকে চলে যাচ্ছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বলেন, ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ধরতে পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাধা দিয়ে সমাবেশ ভন্ডুল করতে পারবে না। যত বাধাই আসুক, সমাবেশ সফল হবে।

ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ কোনো যানবাহনকে রাজধানীতে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবহনে তল্লাশি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুর থেকে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুসংলগ্ন কদমতলী এলাকায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ‘আসুন বিজয় উল্লাসে মাতি’ ব্যানারে বিশাল শামিয়ানা টানিয়ে মঞ্চ সাজসজ্জার কাজ করতে দেখা গেছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রাত থেকে আগামী দুই দিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিজয় উল্লাস করবেন। এ জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।