নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘চার বছরে আট সেমিস্টারে তাঁদের ৩২ হাজার ৪০০ টাকা দিতে হয়। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তাঁত বোর্ডের অধীন থাকা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের অর্ধেক বেতন ও সেমিস্টার ফি দেয়। আমাদের প্রতি অমানবিক ও অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক যুগ আগে। সেমিস্টার ফি কমানোর দাবি নিয়ে একাধিকবার তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে গেছেন। অধ্যক্ষ সব সময় তাঁদের বলেছেন, খণ্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এ জন্য বেশি টাকা ফি দিতে হয়। যদি সরকার এক যুগ পরেও সরকারিভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে না পারে, সেটা সরকার ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার দায় কেন শিক্ষার্থীরা বহন করবে। অবিলম্বে সেমিস্টার ফি কমিয়ে আনা হোক। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ষষ্ঠ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। যদি আমাদের সেমিস্টার ফি ও বেতন কমানো না হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে নরসিংদী তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গুলজার হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি কমানোর বিষয়টি তাঁরা তাঁত বোর্ডকে চিঠির মাধ্যমে একাধিকবার জানিয়েছেন। যেহেতু বোর্ড থেকে সব নির্ধারিত হয়, তাই এ বিষয়ে তাঁদের করণীয় কিছুই নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মচারী খণ্ডকালীন হওয়ায় তাঁদের সেমিস্টার ফিসহ অন্যান্য ফি কমানোর সুযোগ তুলনামূলক কম।