মডেল মসজিদ নির্মাণ তদারকী ও অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ। বিভাগটির কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহাদুর আলী। প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সক্ষমতার অভাব খেয়াল করা গেছে। পরবর্তী সময়ে এই বিভাগে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেওয়া যায়নি। এতে ঠিকাদার কাজে মনোযোগ হারায়। তবে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইসলামি ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা থেকে সরকার সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ উদ্যোগ নেয়। ইসলামিক বই বিক্রি, ইমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামি গবেষণা, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, হজ যাত্রীদের নিবন্ধন প্রভৃতি কার্যক্রম মডেল মসজিদ থেকে পরিচালিত হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতারোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এসব মসজিদ থেকে।

উপজেলা পর্যায়ে ৪৩ শতাংশ জায়গার ওপর মসজিদটি হবে তিনতলা। ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভৈরবের মসজিদ নির্মাণকাজ পায় হেলাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভৈরবে কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে। শুরু থেকেই হেলাল এন্টারপ্রাইজ মাঠপর্যায়ে থাকেনি। উপঠিকাদার হিসেবে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের উত্তরপাড়ার জুলফিকার আলী নামের এক ব্যক্তি শুরুর দিকে কাজটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছিলেন। কিছুদিন পর তিনিও অনেকটা অদৃশ্য হয়ে পড়েন। জুলফিকার কাজটি বিক্রি করে দেন মাহাবুবুর রহমান নামের ঢাকার এক ঠিকাদারের কাছে। তিনি কিছুদিন কাজ করেন। একদিকে নির্মাণ সামগ্রির দাম বেড়ে যায়, অপর দিকে অর্থ ছাড় বিলম্বিত হচ্ছিল, এ রকম বাস্তবতায় ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

ভৈরবে মডেল মসজিদ হচ্ছে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোছামারা গ্রামের ঈদগাহ লাগোয়া স্থানে। গতকাল রোববার সকালে দেখা যায়, মাটির নিচের ফাউন্ডেশনের কাজ শেষে কিছু পিলার ঢালাই হয়েছে। রডে মরিচা পড়েছে। পিলারে আগাছা জন্মেছে।

কথা হয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ফরিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি জানান, বহুদিন ধরে ঠিকাদারের কেউ আর এখন মাঠে আসেন না।

ওই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল আমিন বলেন, শুরু থেকেই যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই মসজিদে নামাজ পড়তে কম করে হলেও ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মসজিদটিকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আর এখন নির্মাণ নিয়ে যত অবিশ্বাস আর সন্দেহ কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে তিনি নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে তেমন অগ্রগতি নেই।

ঠিকাদার মাহাবুর রহমানের হয়ে প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন শহীদুল্লাহ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে তাঁর সঙ্গেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ যোগাযোগ রক্ষা করছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন