পাটগ্রামে যুবকের লাশ রেখে সড়ক অবরোধ, যুবদল নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিচারের দাবিতে যুবকের মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আন্তজেলা মোড়েছবি সংগৃহীত

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক যুবকের লাশ নিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে বুড়িমারী স্থলবন্দর–লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত পাটগ্রামের আন্তজেলা মোড়ে এ অবরোধ চলে।

প্রশাসনের আশ্বাস এবং মামলা হওয়ার পর গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াপাড়া রসুলগঞ্জ এলাকার ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই ফেরদৌস হোসেনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান দুই ভাই।

ঘটনাটিকে ঘিরে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, বিরোধ মীমাংসায় বসা সালিসে পৌর যুবদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সামলু ইসলাম ফিরোজকে ধমক দেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে অপমানিত হয়ে ফিরোজ বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে ফিরোজের পরিবারের দাবি, সালিসের কয়েক ঘণ্টা পর সামলু, তাঁর ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শাহিন ইসলাম, শাহিনের ছেলে তুহিন ইসলামসহ কয়েকজন বাড়িতে গিয়ে ফিরোজকে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবব্রত রায় প্রথম আলোকে বলেন, ওই যুবকের বিষপানের মাত্রা বেশি ছিল এবং শুরু থেকেই অবস্থা গুরুতর ছিল।

গতকাল সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বিচার দাবিতে স্বজন ও এলাকাবাসী বুড়িমারী স্থলবন্দর–লালমনিরহাট মহাসড়কের আন্তজেলা মোড়ে মরদেহ রেখে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে রাত সোয়া নয়টার দিকে ফিরোজের বড় ভাই ফেরদৌস ইসলাম বাদী হয়ে শাহিন ইসলাম, সামলু ইসলাম ও তুহিন ইসলামের বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন। মামলায় বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।