নাটোর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন আবু বক্কর। বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রেনটি নাটোর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর আগমুহূর্তে তিনি তড়িঘড়ি করে নামার চেষ্টা করেন। প্ল্যাটফর্মে পা দেওয়ার আগেই তিনি প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে যান। এতে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাঁর বাঁ পা মাজার নিচ থেকে এবং ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত আবু বক্করকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই তরুণের দাদা নাজির উদ্দিন জানান, তাঁর নাতি লেখাপড়ার পাশাপাশি নাটোর স্টেশনবাজারে মামার মুঠোফোন মেরামতের দোকানে কাজ করতেন। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। তাঁর মা-বাবা ছেলের খবর নিতে হাসপাতালে গেছেন। তিনি আরও জানান, আবু বক্করের বাবার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। সে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছিল।

আবু বক্করের বাবা মো. ফরিদ উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ছেলের সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। তাঁর ছেলের অস্ত্রোপচার চলছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, ছেলের অবস্থা সংকটাপন্ন। ছেলের বিচ্ছিন্ন পা দুটি তাঁরা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার জমসেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ট্রেনটি থামার আগেই প্ল্যাটফর্মে নামার চেষ্টা করেছিলেন ওই তরুণ। দুর্ঘটনাক্রমে তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১০ মিনিট দেরিতে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন