কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন মাহমুদুল। কলেজে লেখাপড়া করা অবস্থায় চাকরিতে যোগ দেন। তবে গ্রামের বাড়িতে এই পরিবারের কেউ বসবাস করেন না। গ্রামে তাঁর অন্য চাচারা বসবাস করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই মাহমুদুলদের বাড়ির সামনে ভিড় করেন। প্রতিবেশীরা জানান, সর্বশেষ ঈদে গ্রামে গিয়েছিল মাহমুদুলের পরিবার। কয়েক দিন পরই চলে যায়। এলাকায় তেমন যান না পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগও নেই।

মাহমুদুলের বাবা এজাজুল হক খান এখন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। তিনিও পুলিশ কনস্টেবল। কুষ্টিয়া শহরের নতুন কমলাপুর এলাকায় এক যুগ আগে বাড়ি করেছেন। সেখানকার প্রতিবেশী ও স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই মা–বাবা দুজন মাগুরায় যান।

মাহমুদুল এখনো বিয়ে করেননি। আত্মহত্যা করতে পারেন, এটা বিশ্বাস হয় না। কারণ, মাহমুদুল ভদ্র ও ভালো ছেলে। তিনি কেন আত্মহত্যা করলেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
শওকত আলী খান, মাহমুদুলের চাচা

ফোনে যোগাযোগ হলে মাহমুদুলের বাবা এজাজুল হক খান বলেন, ‘মাহমুদুলের মধ্যে কখনো কোনো হতাশা দেখিনি। সে কেন আত্মহত্যা করল, বিষয়টি বুঝতে পারছি না। বাড়িতে নিয়মিত কথাও হতো তাঁর। মরদেহ নিতে এখন মাগুরায়।’

মাহমুদুলের বড় বোন সুরাইয়া খাতুন বলেন, ‘প্রথমে আমরা খবর পাই যে মাহমুদুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। পরে জানতে পারি, আত্মহত্যা করেছে। মাহমুদুল কী কারণে আত্মহত্যা করেছে, এটা আমাদের জানা নেই।’

মাহমুদুল হাসানের চাচা শওকত আলী খান বলেন, সর্বশেষ ঈদে মাহমুদুল তাঁর মা–বাবার সঙ্গে বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের দিনই তাঁরা শহরে চলে যান। মাহমুদুল এখনো বিয়ে করেননি। আত্মহত্যা করতে পারেন, এটা বিশ্বাস হয় না। কারণ, মাহমুদুল ভদ্র ও ভালো ছেলে। তিনি কেন আত্মহত্যা করলেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। নিছকই একটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয় আছে, সেটাও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আর মাহমুদুলের লাশ মাগুরা থেকে বাড়িতে আনা হবে, গ্রামের বাড়িতেই দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, মাহমুদুলের মৃত্যুর খবরের পর তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাঁর পরিবারের লোকজন শোকার্ত। তেমন কোনো তথ্য তাঁরা এখনো পাননি। পরিবারের লোকজনও আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন