হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকে আটকের পর নেতা-কর্মীদের থানার সামনে অবস্থান
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে আটকের পর সংগঠনটির শতাধিক নেতা–কর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৭টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নেন। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান।
মাহদী হাসান হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় সেখানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এস এম রাসেল, ফয়সল আমিন ও মির কাদের।
বক্তারা বলেন, এ দেশে হাদী হত্যাকারী গ্রেপ্তার হয় না। অথচ ভুলবশত একটি উচ্চারণের কারণে জুলাই আন্দোলনের একজন সৈনিককে পুলিশ আটক করেছে। তাঁরা বলেন, জুলাই আন্দোলন না হলে এই সরকার ক্ষমতায় বসতে পারত না। অথচ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখা হচ্ছে। মাহদীকে পুলিশ না ছাড়া পর্যন্ত তাঁরা থানার সামনে অবস্থান করবেন।
এদিকে পুলিশ এখনো জানায়নি মাহদী হাসানকে কোন মামলায় আটক করা হয়েছে। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. ইয়াছমিন খাতুন জানান, তাঁকে (মাহদীকে) আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে পরে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ থানা–পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’
খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তাঁর মধ্যস্থতায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
শনিবার বিকেলে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান মাহদী হাসান। এতে তিনি বলেন, ‘আমাদের জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত এক ভাইকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত মুখ ফসকে একটি ভুল বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছেছে।’