কালভার্টের নিচে ভাসছিল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ, পরনের প্যান্ট দেখে শনাক্ত
ময়মনসিংহে নিখোঁজের আট দিন পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে একটি ডোবা থেকে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শিশুটির নাম সাউমী সাবা (৬)। সে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বয়রা ফকির বাড়ি এলাকার স্বপন ফকিরের মেয়ে। শিশুটি বয়রা ছালাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত।
পুলিশ ও শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বপন ফকিরের কোনো সন্তান না হওয়ায় সাউমী সাবাকে এক স্বজনের কাছ থেকে দত্তক এনে লালন–পালন করছিলেন। তাঁকে খুব আদর করে বড় করা হচ্ছিল। গত ২১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বেলা দুইটার দিকে দুই প্রতিবেশী শিশুর সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে খেলতে বের হয়েছিল সাউমী সাবা। ওই দুই শিশু বাড়ি ফিরলেও সাউমী সাবা আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির খোঁজ শুরু করলেও আশপাশের কোথাও পায়নি। এ ঘটনায় সেদিনই শিশুটির বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে বয়রা সমাধানের মোড় এলাকায় একটি ডোবার কালভার্টের নিচে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন এক ব্যক্তি। পরে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি শুরু হয়। শিশুটি নিখোঁজের সময় পরনে থাকা জিনস প্যান্ট দেখে পরিবারের সদস্যরা সাউমী সাবাকে শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিলকিস আক্তার বলেন, ‘শিশুটি সেদিন স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে বের হয়। এরপর আর পাওয়া যাচ্ছিল না। সে অনেক ভালো ছাত্র ছিল। ওর বাবা অনেক আদর করে স্কুলে নিয়ে আসত। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি হয়েছিল। আজ বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের ধারণা বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে।’