জ্বালানি সংকটে স্পিডবোট বন্ধ, ঈদযাত্রা নিয়ে দুশ্চিন্তা যাত্রীদের
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে দেখা যায় এ চিত্র। দুটি ঘাটেই নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। ওই পথে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যেতে হয়। চালক ও চালকের সহকারীরা বলছেন, অকটেন না থাকায় তাঁদের স্পিডবোট বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
খালের ভেতর শুকনা জায়গায় তুলে রাখা সারি সারি স্পিডবোট। ইঞ্জিন বন্ধ। ঘাটের দোকান ও টিকিট কাউন্টারের সামনে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন চালক ও তাঁদের সহকারীরা। মাঝেমধ্যে যাত্রীরা এখানে আসছেন। তবে স্পিডবোট ছাড়বে না, এমন জবাব পেয়ে তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে দেখা যায় এ চিত্র। দুটি ঘাটেই নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। ওই পথে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যেতে হয়। চালক ও চালকের সহকারীরা বলছেন, অকটেন না থাকায় তাঁদের স্পিডবোট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে সন্দ্বীপগামী যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি চালক, চালকের সহকারী, টিকিট মাস্টার, লাইনম্যানসহ দেড় শতাধিক কর্মীও বেকার হয়ে পড়েছেন। ঈদযাত্রা শুরু হলেও স্পিডবোট চালু না হওয়ায় ভিড় বেড়েছে ট্রলারে ও লঞ্চে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে কুমিরা ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ স্পিডবোট খালের তীরে তুলে রাখা হয়েছে। চালক ও সহকারীরা ঘাটের বিভিন্ন দোকান কিংবা বিআইডব্লিউটিএর টিকিট কাউন্টারের সামনে বসে সময় কাটাচ্ছেন। যাত্রীরা কাউন্টারে এসে স্পিডবোট চলবে কি না, জানতে চাইছেন। কাউন্টারের কর্মীরা জ্বালানিসংকটের কথা জানিয়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
সন্দ্বীপগামী যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, জরুরি কাজে তাঁকে সন্দ্বীপ যেতে হবে। ঘাটে এসে জানতে পারেন স্পিডবোট বন্ধ। এ কারণে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তবে কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জোয়ার এলে কাঠের ট্রলার ছাড়তে পারে। এখন তিনি এ অপেক্ষায় রয়েছেন।
‘প্রতিদিন সকালে কাজের আশায় ঘাটে আসি। কিন্তু এসে শুনতে হয় অকটেন নেই। এরপর সারা দিন বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি।’
আরেক যাত্রী মুক্তাদির হোসেন বলেন, সন্দ্বীপের মানুষের কাছে এখনো স্পিডবোটই সবচেয়ে দ্রুত ও জনপ্রিয় যাতায়াতের মাধ্যম। কুমিরা ঘাটের বিকল্প হিসেবে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌপথে ফেরি চলাচল করছে। তবে ঈদের সময় যাত্রী চাপ বাড়লে ফেরি দিয়ে সব যাত্রী সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
স্পিডবোটচালকের সহকারী নাজমুল আলম বলেন, প্রতিদিন সকালে কাজের আশায় ঘাটে আসেন, কিন্তু এসে শুনতে হয় অকটেন নেই। এরপর সারা দিন বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। এভাবে চলতে থাকলে কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
স্পিডবোটচালক বিশু দাস বলেন, আট দিন ধরে তাঁদের বোট বন্ধ। যাত্রীরা এসে স্পিডবোট ছাড়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় তাঁর কিছু কিছু করার থাকে না। এতে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিও হয়।
কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথে তিনটি কোম্পানি স্পিডবোট পরিচালনা করে। এর মধ্যে আদিল এন্টারপ্রাইজ ও আরকে এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে স্পিডবোট সার্ভিস পরিচালনা করছে। অপর কোম্পানি সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিস আটটি স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী আনা নেওয়া করত।
তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তেলসংকট শুরুর আগে থেকেই সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিসের স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে এই নৌপথে আরকে এন্টারপ্রাইজ ও আদিল এন্টারপ্রাইজের ২৫টি স্পিডবোট যাত্রী পরিবহন করছে। স্বাভাবিক সময়ে যৌথভাবে এই দুই কোম্পানির দৈনিক অকটেনের চাহিদা থাকে প্রায় তিন হাজার লিটার। ঈদের সময় যাত্রী চাপ বাড়লে সেই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লিটারে। তবে জ্বালানিসংকটে চলতি ৭ মার্চ থেকে এ দুই কোম্পানির কেউ অকটেন পায়নি।
সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তেলসংকট শুরুর আগ থেকেই তাঁদের স্পিডবোটগুলো বন্ধ রয়েছে। মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে যাত্রীসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্পিডবোট কোম্পানি আরকে এন্টারপ্রাইজের মালিক জগলুল হোসেন বলেন, ঈদের পর ২৮ মার্চ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য তাঁদের প্রায় ৮০ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। কিন্তু এখনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কাঠের ট্রলারগুলোকেও প্রয়োজনের তুলনায় কম ডিজেল দেওয়া হচ্ছে।
জগলুল হোসেন বলেন, ‘ চালক, সহকারী, টিকিট মাস্টার, লাইনম্যান—সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় ১৫০ জন কর্মী রয়েছেন। স্পিডবোট বন্ধ থাকায় তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। তবু মাস শেষে বেতন দিতে হবে। কিন্তু যাত্রী পারাপার না থাকায় আয় নেই, আবার ঘাটের ইজারাও দিতে হচ্ছে।’
সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঈদ সামনে রেখে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে তেল কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ঈদের আগেই সমস্যার সমাধান হবে।