বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা নগরকান্দা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার দুপুরেছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচজন নেতা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার কোটপাড় এলাকায় পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ ঘোষণা দেন।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া নেতারা হলেন উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাহ সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ওহিদুজ্জামান মান্দার, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জামিউল ইসলাম ও সহসভাপতি বাকি মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ নেতাই পৃথক পৃথকভাবে প্রায় অভিন্ন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তাঁরা বলেন, তাঁরা কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যে সংগঠনের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগদান করছেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ওই নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে দল মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।

সালথায় যুবলীগ নেতার পদত্যাগ

এদিকে সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. ওহিদুল ইসলাম সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে তিনি কোনো দলে যোগদানের ঘোষণা দেননি।

লিখিত বক্তব্যে ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আটঘর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পেছনে সাংগঠনিক কোনো লিখিত বৈধতা ছিল না। ২০১৪ সালে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আমাকে মৌখিকভাবে আটঘর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু এ–সংক্রান্ত কোনো নিয়োগপত্র, সাংগঠনিক অনুমোদন বা রেজল্যুশন আমার কাছে নেই।’

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওহিদুল বলেন, এটি কোনো চাপ বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নয়। বরং রাজনৈতিক শুদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।