কর্মবিরতি সাময়িক প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন শ্রমিকদের সংগঠন বৃহত্তর খাতুনগঞ্জ মালামাল লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আবদুল কাদির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পচনশীল পণ্য গাড়িতে পড়ে থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এ কারণে ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে কর্মসূচি সাময়িক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবি পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পাশাপাশি মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।  

আবদুল কাদির জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খাতুনগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মো. মাসুদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার হবেই। শ্রমিকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। এ কারণে শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মেসার্স সামির ট্রেডিংয়ের শ্রমিক মো. মাসুদকে দোকান থেকে টেনে বের করে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গাড়িচালক মো. রাসেলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। এ সময় সামির ট্রেডিংয়ের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কর্মচারীরা দোকানের ভেতরেই ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। মাসুদ দোকানের ভেতরেই ছিলেন। হঠাৎ ১০ থেকে ১২ ব্যক্তি এসে মাসুদকে টেনেহিঁচড়ে দোকানের বাইরে নিয়ে যান। ছুরিকাঘাতে আহত করেন। তাঁদের বাধা দিতে চাইলেও কাজ হয়নি। ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান ওই ব্যক্তিরা। পরে মাসুদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।  

জানা গেছে, এ ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত প্রথম দফায় কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকেরা। পরে বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে অচলাবস্থা নিরসন করতে হবে। কারণ, এ ঘটনার প্রভাবে বেচাকেনা ও পণ্য সরবরাহ বন্ধ ছিল। পেঁয়াজ, আদাসহ কাঁচা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করায় কোনো পণ্য কোথাও যাচ্ছে না। কারণ, শ্রমিকেরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা গুদাম থেকে পণ্য নিয়ে গাড়িতে তোলেন। একইভাবে গাড়ি থেকে পণ্য নামিয়ে গুদামে রাখেন।