কমিটির অন্য সবাই সদস্যসচিব মামুনকে বাদ দিতে চান। এদিকে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে চলছে নজরুল হুদার বিরোধ।
এরশাদ আলী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা নগরের রাজারহাতা এলাকায় বসে ছিলেন। সেখানে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী আবু সাঈদ তাঁর ওপর হামলা চালান। তখন নজরুল হুদার অনুসারী ও সাধারণ লোকজন তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় রফিকুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে লোকজন। মামুন-অর-রশীদের লোক বলে পরিচিত রফিকুল।

এ ঘটনায় নজরুল হুদার পক্ষে শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে রাতেই নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অপর দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনার জেরে রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে মাইদুল ইসলাম গত মঙ্গলবার রাতে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি পাল্টা মামলা করেন। এই মামলায় গত বুধবার রাতে নজরুল হুদার সমর্থক সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা নজরুল হুদা বলেন, সদস্যসচিব মামুন-অর-রশীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করায় মঙ্গলবার চাকু নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদ তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর এক হাত কেটে যায়।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে সদস্যসচিব মামুন-অর-রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে রফিকুলের গত বুধবার জামিন হলেও কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ছাড়া পাননি। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী বলেন, কমিটির অন্য সবাই সদস্যসচিব মামুনকে বাদ দিতে চান। এটা একটি বিষয়। আর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে চলছে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদার বিরোধ। এটা নিয়ে সেদিনের মারামারি কথা তিনি শুনেছেন।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপি এখন বিভক্ত হয়ে আছে। দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে। এ জন্য মামলা হওয়ার পরপরই তিনি দুই পক্ষের আসামি গ্রেপ্তার করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন