ঢাকা থেকে একটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। এতে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামের ওই ট্রেনের প্রায় এক শ যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে পারেননি। ট্রেন না পেয়ে ক্ষুব্ধ ওই যাত্রীরা স্টেশনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকে রাখেন তাঁরা। পরে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরিতে ছাড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস।
একটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে না আসায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসব ঘটনা ঘটে আজ রোববার সকালে। সকাল ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন না পাওয়া কিছু যাত্রী স্টেশনে অবস্থান করছিলেন।
রেলওয়ের কর্মকর্তা ও যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে মহানগর এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছার নির্ধারিত সময় রাত সাড়ে ৩টা। সে ট্রেন চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে আজ সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি করে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। এই ট্রেনেরই প্রায় এক শ যাত্রী চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে আরেকটি ট্রেনে করে পর্যটন শহর কক্সবাজারে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মহানগর এক্সপ্রেস দেরিতে পৌঁছায় তাঁরা কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন মিস করেন।
নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পৌঁছা এবং অন্য ট্রেনে করে কক্সবাজার যেতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। তাঁরা স্টেশন ব্যবস্থাপক ও স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে এবং রেললাইন ও প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর মধ্যে একদল যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে অবস্থান নেন। যাত্রীদের এমন প্রতিবাদের মুখে স্টেশনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ সময় রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়, চলে হট্টগোলও। পরে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যাত্রীদের পরের ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছিয়ে দেওয়ার কথা বললে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এতে যাত্রীরা রেললাইন থেকে সরে দাঁড়ান। আর ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরিতে সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম ছাড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দেরিতে ছাড়ায় দুর্ভোগে পড়েন সিলেটগামী এই ট্রেনের যাত্রীরাও।
মহানগর এক্সপ্রেসের দুজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ট্রেনে করে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই পর্যটন শহরে যেতে মহানগর এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঠিক সময়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। এর মধ্যে কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। অথচ ২০ থেকে ২৫ মিনিট যদি ট্রেনটি দাঁড় করানো যেত, তাহলে তাঁরা ট্রেনে করে কক্সবাজার যেতে পারতেন। যাত্রীরা বলেন, রেলওয়ের লোকজন তো জানেই মহানগর এক্সপ্রেসে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রী আছে। রেলের লোকজন যদি পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রেনটি কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না।
তবে এমন পরিস্থিতির জন্য ইঞ্জিন সংকটকে দায়ী করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। রেলওয়ের চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ইঞ্জিনসংকট প্রকট হয়েছে। ট্রেন চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইঞ্জিনের কারণে ঢাকা থেকে মহানগর এক্সপ্রেস চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায় দেরিতে। কিন্তু এই ট্রেনের প্রায় এক শ যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্টেশনে হট্টগোল করতে থাকেন। তাঁরা কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে না পারার কারণে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও আটকে দিয়েছিলেন। তবে বুঝিয়ে রেললাইন থেকে সরিয়ে দেন। তাঁদের বাধা ও ইঞ্জিনের কারণে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও দেরিতে ছেড়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেসের বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের কক্সবাজারগামী পরবর্তী ট্রেন প্রবাল এক্সপ্রেসে করে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান আবু জাফর মজুমদার। তিনি বলেন, বেলা ৩টা ১০ মিনিটে এই ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়বে। এতক্ষণ ধরে যাত্রীরা অপেক্ষা করবেন কি না বুঝতে পারছেন না। তবে কিছু যাত্রী এই ট্রেনে করে যাওয়ার জন্য রাজি হয়েছেন। কয়েকজন যাত্রী বিকল্প পথে চলে গেছেন।