চীনা ব্যবসায়ীর কোটি টাকা নিয়ে উধাও চালক গ্রেপ্তার, নতুন কেনা আসবাব–ফোন জব্দ

গাড়িচালক জাহিদ হাসান, তাঁর স্ত্রী ও মামার কাছ থেকে উদ্ধার টাকা গুনে রাখছেন পুলিশ সদস্যরাছবি: প্রথম আলো

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে চীনের এক পোশাক ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে পালানো চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুজন হলেন গাড়িচালকের স্ত্রী ও মামা। ঝিনাইদহ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকার গাড়িচালক জাহিদ হাসান (৩০), তাঁর স্ত্রী নাছিমা আক্তার (২৪) ও জাহিদের মামা কাঞ্চনগর এলাকার মো. আক্তারুজ্জামান (৫১)।

ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন নামের কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচের জন্য ওই টাকা গাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরে গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা লুট করে পালিয়ে যান গাড়িচালক।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে চালকের বাড়ি থেকে ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া একটি মুঠোফোন ও নতুন কেনা ফার্নিচার জব্দ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বিভাগের জিএম আকরামুল ইসলাম। মামলায় গাড়িচালককে আসামি করা হয়।

গতকাল শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমাজদ হোসেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় যেহেতু নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে, তাই উদ্ধার হওয়া টাকা, জব্দ করা মালামাল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রূপগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম। মামলায় গাড়িচালককে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জাহিদ হাসান গত ৩ এপ্রিল থেকে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান চীনের নাগরিক ইউ শ্যালির গাড়িচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে একটি কারখানায় কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে চেয়ারম্যানকে নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

চুরি করা টাকা থেকে গাড়িচালক জাহিদ হাসান নতুন একটি বাসা ভাড়া নেওয়া, নতুন আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মুঠোফোন কেনার পেছনে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন।
আমাজদ হোসেন, পুলিশ সুপার, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল

ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাব হোটেলের সামনে গাড়িটি থামান জাহিদ। পরে ইউ শ্যালি খাবার খেতে হোটেলের ভেতরে যান। এ সময় চালক গাড়িটি গুলশানের একটি কফি শপের পার্কিংয়ে রেখে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। খাওয়া শেষে সেখানে ফিরে চেয়ারম্যান গাড়ি ও চালককে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। চালকের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মামলা হলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২–এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নামে। ঝিনাইদহ সদরের একটি বাসা থেকে গাড়িচালক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মামা মো. আক্তারুজ্জামানকে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করে আরও ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং স্ত্রী নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমাজদ হোসেন বলেন, চুরি করা টাকা থেকে গাড়িচালক জাহিদ হাসান নতুন একটি বাসা ভাড়া নেওয়া, নতুন আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মুঠোফোন কেনার পেছনে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন।