ইটভাটায় পরিবেশদূষণের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। এতে বগুড়া, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও—এই চার জেলার অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম সাত দিনের মধ্যে বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার তালিকা দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে চার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

শুধু ইটভাটা পরিবেশ দূষণ করে না। চালকল, সিমেন্ট কারখানা, টাইলস কারখানা, ট্যানারি, সোনা গলানো, প্লাস্টিক কারখানা, ব্যাটারি কারখানা—সবখানেই পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অথচ পরিবেশবাদী সংগঠন সরকারের উন্নয়ন ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য ইটভাটা বন্ধ করার চক্রান্ত করছে।
আবুল কালাম আজাদ, সভাপতি, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখা

আদালতের এই আদেশের পর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এবং বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু যত চাপ বাংলাদেশে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুধু ইটভাটা পরিবেশ দূষণ করে না। চালকল, সিমেন্ট কারখানা, টাইলস কারখানা, ট্যানারি, সোনা গলানো, প্লাস্টিক কারখানা, ব্যাটারি কারখানা—সবখানেই পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অথচ পরিবেশবাদী সংগঠন সরকারের উন্নয়ন ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য ইটভাটা বন্ধ করার চক্রান্ত করছে।

ইটভাটা মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, বর্তমান পরিবেশ আইন অনুযায়ী দেশের সব ইটভাটা অবৈধ। কিন্তু ৬০ জেলার ইটভাটা বন্ধ না করে শুধু বগুড়াসহ চার জেলার ইটভাটা বন্ধ করাটা বিমাতাসুলভ আচরণ। ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সারা দেশের সব ইটভাটা বন্ধ করতে হবে। শুধু চার জেলার ইটভাটা বন্ধের নিন্দা জানার তিনি।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, বগুড়া জেলায় ২৫০টি ইটভাটার মধ্যে পৌরসভা সীমানার সব ইটভাটা মালিকেরা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করেছেন। এখন ইটভাটা আছে ২৬০-২৭০টি। সবই জিগজ্যাগ ভাটা। তিনি বলেন, বর্তমান আইন মেনে ইটভাটার কার্যক্রম চালাতে গেলে চাঁদের দেশে ভাটা নির্মাণ করতে হবে।

ইটভাটা মালিকেরা জানান, ইটভাটা থেকে সরকার বছরে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। অথচ পরিবেশবাদীদের কারণে ইটভাটা বন্ধের চক্রান্ত চলছে।
নেতারা বলেন, ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হবে। বিশ্বমন্দার প্রভাব পড়বে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ লাখ মানুষ বেকার হবে। অপরাধপ্রবণতা বাড়বে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এস এম আতিকুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশের কাগজ এখনো তাঁরা হাতে পাননি। তাঁরা আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে বগুড়া জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির জরুরি সভা হয়েছে। সেখানে উচ্চ আদালতে আদেশ নিয়ে আলোচনা হয়।