খাগড়াছড়িতে এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি ১০ সংসদ সদস্য প্রার্থী

খাগড়াছড়িতে এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে ১০ সংসদ সদস্য প্রার্থী। আজ বিকেলেছবি: প্রথম আলো

রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী।

আজ শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি টাউন হলের সামনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি দেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে বিকেল চারটা থেকে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন জেলা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খাগড়াছড়ি আসনে বিভিন্ন দলের মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী মো. ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, তিনি খাগড়াছড়ির শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবেন। দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত খাগড়াছড়ি গড়ে তোলার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, তিনি এলাকা থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে চান। প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি নারীদের উন্নয়ন ও নারী-শিশুর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, তিনি এলাকার সন্তান হিসেবে খাগড়াছড়ির উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। বিশেষ করে বেকার যুবক এবং তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১০ জন প্রার্থীই পাহাড়ি অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।