রংপুর মেডিকেলে ঠান্ডাজনিত রোগে ২০ দিনে নারী–শিশুসহ ১৬ জনের মৃত্যু

শীতজনিত নানা রোগে বেড়েছে রোগীর চাপ। ওয়ার্ডের বাইরেও চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে। ৬ ডিসেম্বরছবি: মঈনুল ইসলাম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে গত ২০ দিনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৯ ও বয়স্ক নারী–পুরুষ ৭ জন। হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, রংপুরে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।

হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্র জানায়, তিনটি ওয়ার্ডে ১২০ শয্যার বিপরীতে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ২৫৭ জন। এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি আছেন ৩৪ জন। গত রোববার ও সোমবার শিশু ওয়ার্ড ও নবজাতকের বিশেষায়িত সেবা ইউনিট (স্ক্যানু) মিলে ভর্তি ছিলেন ২২৯ জন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগীতে ঠাসা মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ড। অনেক রোগীর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায়। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ফারজানা বেগম (৩৫) নামের এক নারী বলেন, তাঁর সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ফাহিম হাসান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তিন দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন কিছুটা সুস্থ।

রংপুরের হারাগাছ পৌরসভার কেয়া মনির (২০) দুই মাস বয়সী মেয়ে মুনতাহাও নিউমোনিয়া আক্রান্ত। কেয়ার মা নুরী বেগম বলেন, ‘সূর্য দেখা যায় না। রাইতোত ঝড়ির মতো টিনের চাল দিয়া শীত পড়ে। হামরা গরিব মানুষ। ল্যাপ (লেপ), তোশক নাই। বাচ্চা ছোয়া নিয়্যা চিন্তায় আছি।’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শীতে সব সময় ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ে। শীতকালে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, বিশেষত ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া ও অ্যাজমার রোগী বেশি আসেন। এবারও চাপ আছে। এ ছাড়া শীতের সময় রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া হয়। কয়েক দিন আগে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি থাকলেও এখন কমেছে।

শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর জোর দেন এই চিকিৎসক। তানভীর চৌধুরীর পরামর্শ হলো, শীতে রোদ ওঠার আগে বাচ্চাদের বাইরে বের করার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া শীতজনিত রোগগুলো সংক্রামক রোগ হওয়ায় সবার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ছয়টি ইউনিটে শয্যার সংখ্যা ১৩৫। তবে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকেন। শীতজনিত রোগের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দি–কাশি, বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, স্ট্রোকজনিত রোগ বেশি হচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা খুব বেশি নয়। অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য বলছে, আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা তিনটায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ রাতে রংপুরের তাপমাত্রা আরও কমবে। সকালে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকবে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা পাওয়া যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বাড়বে।