কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবির থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাড়ি জমান ৫৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলি ও সংঘাতে টিকতে না পেয়ে তাঁরা (৫৩) গতকাল রোববার দুপুরে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফে অনুপ্রবেশ করেন। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় টেকনাফ মডেল থানায় ৫৩ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের ধারায় মামলা করেন উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হোয়াইক্যং বিওপির নায়েক ছরওয়ারুল মোস্তফা। গ্রেপ্তার রোহিঙ্গার মধ্যে কেফায়ত উল্লাহ (২০) নামের এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কেফায়ত উল্লাহকে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিজিবির দায়ের করা মামলায় কেফায়ত উল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার দুপুরে বিজিবি টহল দল টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা নিয়ে কিছু লোক বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে। বেলা পৌনে একটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সময়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে অনুপ্রবেশ করা ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় কেফায়ত উল্লাহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এজাহারে বলা হয়, গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। তাঁরা আশ্রয়শিবির থেকে বের হয়ে সাগর ও নদীপথে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। সেখানে (রাখাইনে) গিয়ে রোহিঙ্গা বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি জটিল ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়লে রোহিঙ্গারা আবার নাফ নদী অতিক্রম করে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল গ্রামে অনুপ্রবেশ করেন।
৫৩ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়ার কয়েকটি আশ্রয়শিবিরের শরণার্থী। তাঁদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর কেউ আছেন কি না, যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, কিছুদিন বিরতি দিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল ৯টার দিকে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে হুজাইফা সুলতানা। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।