তাঁদের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে বলেছি চাঁদাবাজি বন্ধ করুন: জামায়াতের আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আবারও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। আজ সোমবার চট্টগ্রামে আয়োজিত জনসভায় এ প্রসঙ্গে নাম উল্লেখ না করে একটি দলের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তাদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বসে হাতে ধরে বলেছি—চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। অমুক আলমের সাম্রাজ্যের পাহারাদারি বন্ধ করুন। কিন্তু তবু এখানে-ওখানে বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু হয়ে গেল। এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দেবে?’
আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল মাঠে নগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। এর আগে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আরও চারটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি অংশ নেন।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদেরই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন—তিনি হচ্ছেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি এখন বলেছেন—আমি এখন বিএনপিতে নেই। আমি থাকতে পারি না। কারণ, এটি জিয়াউর রহমান বা বেগম জিয়ার বিএনপি নয়।’
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো সকলেই মজলুম ছিলাম। তারা ১৫ বছর, আমরা আরেকটু বেশি। আমাদের ওপর তাণ্ডব শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে জিরো পয়েন্টে প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ছয়জন ভাইকে খুন করা হয়েছিল। তারা তাদের পাওনার এক অংশ পেয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা—এদের চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে। আফসোস, সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরল, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করল, শহীদ পরিবারগুলোর কাছে দৌড়ে গিয়ে হাজির হলো।—আর সেই জায়গায় একটি দল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল।’
চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়, আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করব।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া, এলডিপির নগর শাখার সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের নগর শাখার সভাপতি খুরশিদ আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম লুৎফর রহমান, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা মিতু, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা প্রমুখ।
১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এনসিপির চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের মোহাম্মদ শফিউল আলম, খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী ইয়াকুব আলী।