উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মোট ৪ হাজার ৫৪৫ জন উপকারভোগী ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাবে। সম্প্রতি এ কর্মসূচির উপকারভোগীদের অনলাইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে সরকার। এ জন্য উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম হওয়ার কথা। তবে জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে নিবন্ধন ধীরগতিতে চলছিল। নিবন্ধন দ্রুত সম্পন্নের জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপজেলা খাদ্যগুদামের কার্যালয়ে বিনা মূল্যে নিবন্ধন চালু করেন।

উপকারভোগী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে খাদ্যগুদামের কার্যালয়ে উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উপকারভোগীদের অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে মাস্টাররোলের ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারী রাসেল আহমদ নিবন্ধনের কাজ করছিলেন। এ সময় রাসেল তাঁর পারিশ্রমিকের কথা বলে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছিলেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখে ১৫ থেকে ২০ জন উপকারভোগী তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন।

খবর পেয়ে জায়ফরনগর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল হাসান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম এবং পশ্চিম জুড়ী ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিলন রুদ্রপাল খাদ্যগুদামে যান। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীও ছিলেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ১০ থেকে ১৫ জন নারী রাসেলের সামনেই টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল আহমদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘কাজে খুশি হয়ে যে যত (টাকা) পারেন, দিয়েছেন। জোরজবরদস্তি করে কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।’

ইউপি সদস্য কামরুল হাসান বলেন, তাঁর এলাকার বিভিন্ন উপকারভোগীর কাছ থেকে ১০০, ২০০ টাকা করেও উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে এভাবে উৎকোচ নেওয়া ঠিক হয়নি। এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও মিলন রুদ্রপাল একই রকম অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আরিফ খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। পরে ঘটনাটি শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।