রাজশাহীতে জমি পতিত রেখে পুকুরে পানি দেওয়ায় অপারেটরকে অব্যাহতি
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত তেকাটিয়া মৌজার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের অপারেটর গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অপারেটর গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি নলকূপের আওতাভুক্ত জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য পানি না দিয়ে মাছ চাষের জন্য পুকুরে পানি দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে গত শনিবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘রাজশাহীর দুর্গাপুর: বিরোধের জেরে ৪০ বিঘা জমি পতিত রেখে পুকুরে পানি দিচ্ছেন অপারেটর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিন বিকেলেই বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি কিসমত তেকাটিয়া ও কিসমত বগুড়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং নলকূপের আওতাভুক্ত মাঠ পরিদর্শন করে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনার (গোলাম রাব্বানী) দ্বারা পরিচালিত নিম্ন তফসিল বর্ণিত গভীর নলকূপ স্কিম পরিচালনায় বর্ণিত ত্রুটি/অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আপনাকে গভীর নলকূপ অপারেটর পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। আগামী তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কিমের দায়িত্বরত মেকানিক/সহকারী মেকানিক এর নিকট গভীর নলকূপের যাবতীয় মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
চলতি বোরো মৌসুমে অপারেটর গোলাম রাব্বানী দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত বগুড়া গ্রামের ৫৮ জন চাষির প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে সেচ দেননি। ফলে চাষিরা বোরো চাষ করতে পারেননি। এর আগে তিনি তাঁদের পাকা শর্ষের খেত পানি দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মারামারি করেছেন। মুজিবুর রহমান নামের একজন চাষির হাত ভেঙে দিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন সমিতির মাধ্যমে গভীর নলকূপ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। অপারেটর তাঁদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বিগুণ দামে চাষিদের কাছে পানি বিক্রি করছিলেন। এ ব্যাপারে বোরো ধান রোপণের সময় এলাকাবাসী বিএমডিএ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ তাঁকে একাধিকবার নোটিশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি। যথাসময়ে জবাবও দেননি।
বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে ওই গভীর নলকূপ পরিচালিত হবে।