‘ভোট না, আমাগো এলাকায় উৎসব নিয়া আইছে দিপু’

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর কর্মী–সমর্থকদের গণমিছিল। সোমবার বিকেলে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

‘১৭ বছর পর ভোট অইতাছে। এলাকার ছেলে ধানের শীষ পাইছে। ভোট না, আমাগো এলাকায় উৎসব নিয়া আইছে দিপু।’ সোমবার বিকেলে এভাবেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ার বৃদ্ধ দিনমজুর আলম মিয়া।
দুপুরে ভুলতার আল্লার দান আড়ত মাঠ এলাকায় দিনমজুর আলমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এলাকার লোকজনের সঙ্গে পায়ে হেঁটে ধানের শীষের মিছিল করতে করতে মাঠে প্রবেশ করেন এই বৃদ্ধ।

বেলা তিনটায় ভুলতার এই মাঠ থেকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্বাচনী গণমিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা একটার পর থেকেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাদ্যযন্ত্রসহ নেচে-গেয়ে লোকজন মাঠে আসতে থাকেন। বেলা তিনটা নাগাদ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠের আশপাশের এলাকাও লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ, সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন। মামুন মাহমুদ ও কাজী মনিরুজ্জামান ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থেকে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে এই বিএনপির জোয়ার দেখে শুধু রূপগঞ্জ না, সারা বাংলাদেশ বলবে, বিএনপি একটি ব্যতিক্রম দল। আমরা সবাই একত্রে আছি। রূপগঞ্জকে গড়ার জন্য সবাই একসঙ্গে মিলে কাজ করব। আমরা একটি স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়তে চাই। যে রূপগঞ্জে সন্ত্রাস, মাদক থাকবে না। আমরা সকলে মিলেমিশে এমন একটি রূপগঞ্জ তৈরি করব, যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব নিয়ে রূপগঞ্জের পরিচয় দিতে পারে।’

হাত নেড়ে কর্মী–সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। সোমবার বিকেলে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

সমাবেশের আগে মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রূপগঞ্জের অন্যতম প্রধান সংকট ভূমিদস্যুতা। যে যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন, জমি না কিনে কেউ যেন বালু ভরাট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া পূর্বাচলের প্লটগুলো যেন জমির মালিকেরা বুঝে পান, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

‘মাদক’ চনপাড়াসহ রূপগঞ্জের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ২০টি মাদকের স্পট তারেক রহমান চিহ্নিত করেছেন। তার মধ্যে কয়েকটি রূপগঞ্জে রয়েছে। আমরা দলগতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব।’

স্থানীয় মানুষ যেন রূপগঞ্জের শিল্পকারখানায় কাজ পান, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যদি কারখানামালিকেরা স্থানীয়দের কাজে নিতে ভয় পায়, তাহলে আমি নিজে আমার অঞ্চলের মানুষের জিম্মাদার হব।’

পানি ও শব্দদূষণ রোধে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি রূপগঞ্জে আবাসিক গ্যাস সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘শিল্প ও আবাসনের কারণে রূপগঞ্জে প্রাকৃতিক জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমি তারেক রহমানের কাছে গ্যাস–সংকট সমাধানের আবেদন জানাব।’

বিকেল পাঁচটায় গণমিছিল শুরু হয়। রূপগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও তরুণ স্লোগান আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। ছোট্ট শিশুরা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদলে নিজেদের সাজায়। গণমিছিল নাম হলেও অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ততা মিছিলটিকে আনন্দ মিছিলে রূপ দেয়।

মিছিলে অংশ নিয়ে ভুলতা এলাকার বাসিন্দা মো. রাজন মিয়া বলেন, রূপগঞ্জ মূলত বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। মানুষ ধানের শীষকেই ভোট দিতে চাইত, কিন্তু গত ১৭ বছর সেই সুযোগ ছিল না। দিপু ভাইয়ের পরিবার প্রায় শত বছর ধরে রূপগঞ্জে জনপ্রিয়। তাঁকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে পেয়ে মানুষ আনন্দিত। এই মিছিল সেই আনন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।

কাঞ্চন থেকে আসা গৃহিণী হোসনেয়ারা বলেন, ‘দিপু ভূঁইয়া এত উচ্চবংশের মানুষ হইয়াও আমাগো লগে নিরহংকারভাবে মিশে। আমরা তারে ছেলের মতো ভালোবাসি।’ মোস্তাফিজুর রহমান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ভূমিদস্যু ও মাদকের হাত থেকে রূপগঞ্জকে রক্ষা করবেন বলে মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজন আশা প্রকাশ করেন।
মিছিলটি ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সন্ধ্যায় ভুলতা এলাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক ওরফে খোকন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে মিছিল শেষ করেন।