রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার পুকুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রদলের কর্মীরা আহত

মারামারিপ্রতীকী ছবি

রাজশাহীর বাগমারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার পুকুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রদল নেতার ৮–১০ জন অনুসারী আহত হয়েছেন। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জনতার হাতে অবরুদ্ধ দুই বহিরাগতকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহী নগরের রানীনগর এলাকার সোহাগ আলী (২৪) ও সজিব রহমান (২৮)। আজ শুক্রবার সকালে তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য তাহেরপুর পৌর বিএনপির এক নেতাকে দায়ী করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তাহেরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার ১২০ বিঘার একটি পুকুর নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে বাজারের হরিতলা মোড়ে উভয় পক্ষ বসে। সেখানে আগে থেকেই ১০–১২টি মাইক্রোবাসে করে বেশ কিছু বহিরাগত অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতার সমর্থকদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এলোপাতাড়িভাবে কোপানো হলে এক শিক্ষকসহ ৮–১০ জন আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। তাঁরা মাইক্রোবাস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সোহাগ আলী ও সজিব রহমানকে ধরে ফেলেন। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাহেরপুর তদন্তকেন্দ্র ও বাগমারা থানার পুলিশ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা দুজনকে আটক করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের তাহেরপুর পৌরসভার শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা মজিদপুর এলাকায় ১২০ বিঘার একটি পুকুর খনন করেন। কৃষকদের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে পুকুরটি খনন করা হয়। পরে তিনি পুকুরটি ঢাকার ব্যবসায়ী রুম্মান হোসেনের কাছে ইজারা দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই যুবলীগ নেতা আত্মগোপনে যান।

এদিকে রুম্মান হোসেন পুকুরের ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় যুবলীগ নেতা চুক্তি বাতিল করে তাহেরপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানাকে ইজারা দেন। এর মধ্যে রুম্মান হোসেন আবার পুকুরটি স্থানীয় মানিক হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ইজারা দিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ইজারাদার হিসেবে ছাত্রদলের নেতা সোহেল রানাকে শনাক্ত করে। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বসার সময়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদলের নেতা সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘তাহেরপুর পৌর বিএনপির এক নেতার আমন্ত্রণে রাজশাহী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১০০ শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে আমার ও সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা করে। আমাদের রক্ষা করতে গিয়ে স্কুলশিক্ষক সাগর মাস্টার, শ্রাবণসহ ৮–১০ জন আহত হয়।’ প্রতিপক্ষ রুম্মান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আটক হওয়া ব্যক্তিদের আজ শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।