পাঁচ কিশোর-তরুণকে বেড়ানোর কথা বলে অপহরণ, আটকে রেখে চলে নির্যাতন
পাঁচ কিশোর-তরুণের ২ জনের বয়স ১৬, ২ জনের ১৮ এবং ১ জনের বয়স ২০ বছর। টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে বেড়ানোর কথা বলে ১১ সেপ্টেম্বর তাঁদের অপহরণ করেন মানব পাচারকারী সদস্যরা। পাচারকারীরা সাগরপথে তাঁদের ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। উদ্দেশ্যে দফায় দফায় পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়। তবে অপহরণের ১০ দিন পর গতকাল রোববার তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)। মুক্তি পাওয়া কিশোর–তরুণেরা অভিযোগ করেছেন, অপহরণের পর পাচারকারীরা তাঁদের আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন।
এ ঘটনায় মো. আনাস ওরফে মুন্না (২১) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। এসআরবি-১৫–এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আ ম ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গতকাল ভোরে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্টের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ কিশোর-তরুণকে উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান (১৮) এবং ১৬ বছর বয়সী ২ কিশোর।
এসআরবি দেওয়া তথ্যমতে, অভিযান চলাকালে মো. আনাসকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানব পাচারচক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান। এ সময় অপহৃত পাঁচ কিশোর-তরুণকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার মো. আনাস এবং উদ্ধার পাঁচ ভুক্তভোগীকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে মামলা করা হয়েছে।
এসআরবি-১৫ সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার পাঁচ কিশোর-তরুণকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের কথা বলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন চক্রের সদস্যরা। রাতে টেকনাফে পৌঁছালে মো. আনাস প্রকাশ মুন্নার বাড়িতে থাকার কথা বলে তাঁদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাঁদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নৌপথে তাঁদের ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোর–তরুণদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর এসআরবি-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় এসআরবি।