আমের বাগান করে কলেজছাত্র ইমনের আয় বছরে দুই লাখ টাকা
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন মো. ইমন (২২)। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার স্বপ্ন পূরণে গত বছর গড়ে তুলেছেন আমের বাগান ও নার্সারি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই উদ্যোগই এনে দিয়েছে সাফল্য।
১৪০ শতক জমিতে গড়ে ওঠা ইমনের বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি ৪০ জাতের চার শতাধিক আমগাছ। চলতি মৌসুমে বিষমুক্ত আম ও কলমের চারা বিক্রি করে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। মৌসুম শেষ হতে হতে মোট আয় দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ টাকায়।
বুধবার দুপুরে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী গ্রামের পাঁচকিপাড়া এলাকায় ইমনের ‘গ্রামবাংলা নার্সারি’ ঘুরে এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। ইমন উপাদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বিল্লাল হোসেন ও আয়েশা বেগম দম্পতির ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ইমনের বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে নানা জাতের আমগাছ। গাছে ঝুলছে পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা আম। আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা, মিয়াজাকি, চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড পালমার, ব্রুনেই কিংসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। পাকা আমের সুবাসে মুখর চারপাশ। কেউ আম কিনছেন, কেউ দরদাম করছেন। ব্যস্ত সময় পার করছেন ইমনও।
ইমন বলেন, তাঁর বাবা ঢাকায় গণপূর্ত বিভাগে চাকরি করতেন। অবসরের আগে থেকেই আমের বাগান করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তবে নানা কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বাবার উৎসাহ ও আর্থিক সহায়তায় ২০২৪ সালে পাঁচ লাখ টাকায় ১৪০ শতক জমি ইজারা নেন ইমন। পরে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন আমের বাগান ও নার্সারি। ঢাকার গাবতলীতে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সংগ্রহ করেন ৪০ জাতের আমের চারা। দেশি হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালির পাশাপাশি জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতের আমও রয়েছে তাঁর বাগানে।
আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা, মিয়াজাকি, চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড পালমার, ব্রুনেই কিংসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমে ভরে উঠেছে পুরো বাগান।
ইমন বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে গাছে প্রথম ফল আসে। গত মাস থেকে পাকা আম বিক্রি শুরু করেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ মণ বিষমুক্ত আম বিক্রি করে উৎপাদন ব্যয় বাদে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মৌসুম শেষে বাকি আম ও কলমের চারা বিক্রি করে আরও প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন।
ইমন আরও বলেন, আম ও কলমের চারা বিক্রির টাকায় তাঁর লেখাপড়ার খরচ চলছে। পরিবারেও এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা। বাগান থেকেই বেশির ভাগ আম বিক্রি হয়ে যায়। এ ছাড়া চাঁদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও তাঁর আমের চাহিদা আছে। আগামী মৌসুমে ৩০০ মণের বেশি আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইমন দিনে বাগানের কাজে ব্যস্ত থাকেন, রাতে লেখাপড়া করেন। তিনি পরিশ্রমী ও কাজের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ চৈতন্য পাল বলেন, শিক্ষার্থী হয়েও ইমন যেভাবে আমের বাগান ও নার্সারি গড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা তাঁর অদম্য মানসিকতার পরিচায়ক। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের জন্য তিনি একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।