অপহৃত দুই কিশোরের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার রাতে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে কথা আছে বলে দুই কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গহিন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দুজনকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

অপহৃত মুবিনুলের বাবা মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বাড়িতে কিছু লোক এসে প্রথমে ঘরের দরজা খুলতে বলে এবং পানি খেতে চায়। পানি দেওয়ার পর ছোট ছেলেকে ডেকে কিছু কথা আছে বলে কিছু দূরে নিয়ে যায়। এ সময় পাশের বাড়ির মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে মোহাম্মদ নূরকেও সঙ্গে নিয়ে যায়।

মোহাম্মদ ইলিয়াস আরও বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করতেই “তাদের সঙ্গে কিছু কথা আছে” বলে তাঁরা আমার ছেলেসহ দুজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান। তখন আমি চিৎকার দিলে তাঁরা দ্রুত পাহাড়ের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তাদের জীবিত ফিরিয়ে দেবেন বলে জানান। এ ঘটনা পুলিশ ও র‍্যাবকে জানালে তাদের দুজনকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদকে জানানো হয়।’

এ বিষয়ে পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দুই কিশোরকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে তিনি শুনেছেন। গহিন পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কৌশলে তাঁরা অভিযান চালাচ্ছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। প্রতিনিয়ত তারা পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে এসে মানুষের ঘরবাড়িতে হানা দেয়। হাঁস-মুরগি, ছাগল, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্য লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু এলাকাবাসী প্রাণের ভয়ে মুখ খোলেন না। তাদের দলে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো লোক ও অস্ত্র আছে।

ইউপি সদস্য ইলিয়াস আরও বলেন, শুধু এই দুজন নয়, এ পর্যন্ত তারা অনেক লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পর ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো ধরনের প্রতিকার পাননি। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কারণে আতঙ্কে থাকেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অপহৃত দুই কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন