পদ্মার তীরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী একটি গ্রামে কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা।ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মাবাহিত জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গতকাল দুপুরে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতা-কর্মী এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন। তাঁদের ধানকাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। কোন এলাকায় এমন কাজ করেছে, তা খোঁজা হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ভিডিওতে দেখা যায় ১০-১২ জন তরুণ জাতীয় পতাকা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে একটি ধানখেতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এরপর তাঁরা একজন কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। ওই ধান মাথায় নিয়ে একটি নছিমন গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। ধান কাটতে সহযোগিতা করায় ওই এলাকার একজন কৃষক শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগ ও জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ দিতে শোনা যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরের ছাত্রলীগের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্রকাশ্যে আর তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিল, অল্প সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ, বিভিন্ন দিবসে এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠনটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা কর্মকাণ্ড পালন করেছে। প্রতিটি কর্মসূচির পরে পুলিশ বিভিন্ন থানায় ওই সব নেতাদের বিরিুদ্ধে মামলা করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আমাদের ওপর মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে এলাকাছাড়া করেছে। তাই আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দলীয় কর্মসূচি এবং সামাজিক কাজে অংশ নেই। গত দেড় বছরে বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপকারে আসে, এমন সামাজিক কাজ করেছি। আস্তে আস্তে এ কাজগুলো সংখ্যা বৃদ্ধি করব। সামনে চেষ্টা করব তা প্রকাশ্যে করার।’