নেত্রকোনায় ডেপুটি স্পিকারের লাগানো গাছের চারা উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের বামনী এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে অন্তত ২৫টি চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরাছবি: প্রথম আলো

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামালের উদ্যোগে সড়কের পাশে লাগানো গাছের চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। নেত্রকোনার কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের কলমাকান্দার বামনী এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে অন্তত ২৫টি চারা উপড়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট কায়সার কামালের উদ্যোগে কলমাকান্দার বিভিন্ন স্থানে বনজ, ফলদ, ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে হীরাকান্দা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো চারা লাগানো হয়। চারাগুলোকে গরু-ছাগলের হাত থেকে বাঁচাতে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বামনী এলাকায় অন্তত ২৫টি চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া কয়েকটি চারা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, সকালে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সড়কের পাশে লাগানো কয়েকটি গাছের চারা উপড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। কিছু চারা ভেঙেও ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি চারা নষ্ট করা হয়েছে। গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা কেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলে জানান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, গাছের চারা উপড়ে ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। যারা এই কাজ করেছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছে বলে মনে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। উপড়ে ফেলা গাছগুলো আবার লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।’

পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন বাসাউরা এলাকার বাসিন্দা বিভাস সাহা। তিনি বলেন, সরকারি জায়গায় পরিবেশের জন্য উপকারী গাছ লাগানোর পর সেগুলো নষ্ট করা খুবই দুঃখজনক। গাছগুলো বড় হলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের উপকার হবে। কাজটি যারাই করে থাকুক, এটা অন্যায় হয়েছে, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।