এ কমিটি ঘোষণার পর থেকে একটি পক্ষ ত্যাগীদের মূল্যায়ন না দেওয়া এবং বিএনপির সাবেক এক নেতাকে আওয়ামী লীগের পদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছিল।

আজ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা–কর্মীরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঘোষিত এই কমিটি আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপি–জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দিয়ে কমিটি গঠন করায় আওয়ামী নেতা–কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান নেতা–কর্মীরা।

প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিরন মিয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন দাবি করে বক্তারা বলেন, হিরন মিয়া যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় ২০১৫-১৬ সালে বিএনপির রাজনীতি করতেন। যুক্তরাজ্যে তিনি পদধারী নেতাও ছিলেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের সদস্যও নন হিরন মিয়া। হঠাৎ করেই তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করায় তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ এই বিতর্কিত কমিটি গঠন করায় উপজেলাজুড়ে ত্যাগী ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল ঘোষণা না করলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালামের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শাহানুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন, বিমানবন্দর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিব রানা প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে হিরন মিয়া বলেন, পদ না পেয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুই দফা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ওই সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হিরন মিয়া দুবার নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। এখন যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের অনেকেই তো তখন হিরন মিয়ার পক্ষে ছিলেন। দলের শীর্ষস্থানীয় পদ মাত্র দুটি। দুজনকেই দিতে হবে। এর মানে এই নয় যে ত্যাগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।