সীতাকুণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু
ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হলেও কাটা হচ্ছিল জাহাজটি, ফেরদৌস স্টিলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত ১২ আগস্ট। এরপর ছাড়পত্র নবায়ন না করেই পুরোনো জাহাজ ‘এমটি রাসি’ কাটার কার্যক্রম চলছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় গত ১৪ আগস্ট ওই জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া জাহাজ কাটার দায়ে আজ বুধবার প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ছাড়পত্র নবায়ন না করা পর্যন্ত জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ছবি পর্যালোচনা করে ছাড়পত্র ছাড়া কাটিং চালানোর প্রমাণ পাওয়ার পর শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির জন্য ‘এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।
আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করা পর্যন্ত এমটি রাসির কাটিং কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আদেশে বলা হয়েছে।
এর আগে ৯ ব্যক্তির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডও ফেরদৌস স্টিলের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাঁদের মৃত্যুর কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড বলে প্রাথমিকভাবে জানায় শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে যান। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে দলটিতে থাকা বিশেষজ্ঞরা জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকসহ বিভিন্ন অংশ থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেন। তবে পরিদর্শনের সময় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শূন্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, গতকাল তদন্ত দলের পরিদর্শনের সময় বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইড ছিল না। ঘটনা ঘটার চার দিন অতিবাহিত হওয়ায় গ্যাস জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে গেছে বা বাতাসের সঙ্গে মিশে সরে গেছে। এখন অক্ষত ট্যাংকগুলোয় হাইড্রোজেন সালফাইড আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন দেবেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। যাতে নিরাপদে তদন্তকারীরা তদন্ত করতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে শ্রমিকেরা ট্যাংকগুলো কেটে নিতে পারেন।