বর্ষাকালে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি সরে যাওয়ার উপায় থাকে না। ফলে জমির ফসল নষ্ট হয়।

জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম কৃষি কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হইলে জমিত পানি থাকে। ডেরেন (নালা) হওয়া দরকার। তবে রাস্তা ভালো হইছে।’ 

১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লাইকুর রহমান (স্বতন্ত্র) বলেন, এই পাঁচ বছরে যতটুকু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা দিয়ে এলাকার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা দূর করতে নালার কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও তা আর হয়নি। এ ছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো।

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করবেন। আর জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।

রাজেন্দ্রপুর, কামদেবপুর, বিন্যাটারী, শালমাড়া এলাকা নিয়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের শংগের মাঠ থেকে পশ্চিমে শালমাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বেহাল। মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। জনগণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। ধনীর পাড়া থেকে দক্ষিণে যেতে কবিরাজপাড়ায় খালের ওপর সেতু নেই। সেখানে সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা ধনঞ্জয় বর্মণ দরজির দোকান আছে নজিরের হাটে। তিনি বলেন, ‘আশপাশের ওয়ার্ডের থেকে আমাদের ওয়ার্ডের অবস্থা খারাপ। রাস্তা খুঁড়ে রাখা হলেও এখনো কাজ করা হয়নি। বেশি বৃষ্টি হলে বর্ষাকালে এলাকায় পানি জমে যায়। এ থেকে আমাদের পরিত্রাণ পাওয়া দরকার।’ 

১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, ঠিকাদারের জন্য সড়কের নির্মাণকাজ পিছিয়ে গেছে। সাধ্যমতো এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। মানুষের সহযোগিতায় পুনরায় নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবেন।

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রথমে করার চেষ্টা করবেন। 

রাধাকৃষ্ণপুর, চকইসবপুর, পক্ষিফান্দা, গোপিনাথপুর, ভবানীপুর, জলকরিয়া এলাকা নিয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক পাকা হয়েছে। সড়কবাতি থাকলেও অপর্যাপ্ত আলো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গড়ে ওঠেনি।  

রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, আগের থেকে এলাকার অবস্থা ভালো হয়েছে। সড়ক পাকা হয়েছে। খুব সহজে এখন অটোরিকশায় চড়ে মূল শহরে যাওয়া-আসা করা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে ভালো বলা যায়। তবে এখানে কোনো নালা-নর্দমা নেই।

১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল আবেদীন (স্বতন্ত্র) বলেন, চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও এলাকায় নালার কাজ করতে পারেননি। তবে রাস্তাগুলো পাকা করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর সময়টা খুব একটা বেশি সময় নয়। পুনরায় নির্বাচিত হলে বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। 

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব সময় ভালো রাখার চেষ্টা করবেন। সেই সঙ্গে মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়তে যুবক-তরুণদের নিয়ে সামাজিক কাজ করে যাবেন।