আজ সকালে শিশুটির বাসায় বসে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ঈদের আগের দিনদুপুরে মেয়ের মাকে সঙ্গে করে তিনি শ্বশুরবাড়িতে মুরগি দিতে গিয়েছিলেন। মুরগিগুলো তাঁর মেয়ের পোষা। সে সময় মেয়ে একাই বাড়িতে ছিল। তাঁর মেয়ে খুব হাসিখুশি। যাওয়ার সময় নিজেই রিকশা ঠেলে রাস্তায় তুলে দেয়। দৌড় দিয়ে মুরগিগুলো ঘর থেকে এনে দেয়। মেয়ের মাকে তার নানির বাড়িতে রেখে তিনি রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। দুপুরে বাড়ির পাশের এক যুবক ফোন দিয়ে তিনি কোথায় আছেন জানতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর এলাকায় ছিলেন। বিকেল চারটার দিকে বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁর মেয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখেন গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলানো। তার পা মাটিতে ঠেকে আছে। নামানোর পরে মেয়েকে মৃত পেয়েছেন।

শিশুটির মা বললেন, মেয়ের শোয়ার চৌকিটাতে তাঁরা ঘুমাতে পারেন না। তাই চৌকির ওপরে পরিবারের অন্যান্য তৈজসপত্র রেখে দিয়েছেন। তার মধ্যে মেয়ের বইও রয়েছে। রয়েছে তার লিপিস্টিক ও চুড়ির বাক্স।

শিশুটির বাবা বলেন, তিনি বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ এক যুবককে খুবই উদ্‌ভ্রান্ত অবস্থায় দেখেছিলেন। কাছের মানুষ হয়ে ওই যুবক তাঁর দিকে তাকাননি। তিনি তাকানোর চেষ্টা করলে ওই যুবক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর যে যুবক ফোন করেছিলেন, তাঁর দেখা পাননি।

শিশুটির মা বললেন, মেয়ের শোয়ার চৌকিটাতে তাঁরা ঘুমাতে পারেন না। তাই চৌকির ওপরে পরিবারের অন্যান্য তৈজসপত্র রেখে দিয়েছেন। তার মধ্যে মেয়ের বইও রয়েছে। রয়েছে তার লিপিস্টিক ও চুড়ির বাক্স।

দেখা গেল, ঘরের টিনের বেড়ায় শিশুটি আত্মীয়স্বজন সবার ফোন নম্বর লিখে রেখেছে। একটি দেয়ালে কাজী নজরুল ইসলামের ‘মা’ কবিতাটি আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছে। পাশের নিজের হাতে আঁকা বিদ্যালয়ের ও জাতীয় পতাকার ছবি, সুকুমার রায়ের একটি কবিতাও লাগানো রয়েছে।

‘সব আমার মেয়ে নিজে হাতে করেছে। সব ওর হাতের লেখা। ঈদে মেয়ের মামার দেওয়া উপহারের নতুন জামা, নিজেরা কিনেছি নতুন জামা বানানোর কাপড় সব পড়ে রয়েছে। আমার মেয়ে খুব শৌখিন ছিল...’ বলেই শিশুটির মা জোরে শব্দ করে কাঁদতে লাগলেন। তিনি মানতে পারছেন না যে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাঁর সন্দেহ, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। একই সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুটির বাবাও।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজকে এ বিষয়ে ফোন করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তাঁদের কাছে প্রথমে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তারপরও ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই বোঝা যাবে। তা ছাড়া মেয়ের বাবা চাইলে মামলা করতে পারেন। এটা তাঁদের বলা হয়েছে।

সন্ধ্যায় খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোন করলে শিশুটির বাবা বলেন, বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এসে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। বিকেল মামলা নিয়েছে। সন্ধ্যায় জানতে চাইলে ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, মেয়ের বাবা থানায় এসে অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। তাঁরা হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করেছেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন