গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, জেলার আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন সড়কের কাজ চলছে। ওই সড়কের ইউটিলিটি শিফটিংয়ের আওতায় সদর উপজেলার ঘাটুরা টিবিএস থেকে পুনিয়াউট নতুন বাইপাস পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে গ্যাস পাইপলাইনের কাজ করা হবে। ৩১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৩ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কাজ করা হবে। এ জন্য তিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইলের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, হাটবাজার, চায়ের দোকান ও শহরের বাসিন্দারা আগে থেকেই বিকল্প প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বাজার থেকে কেরোসিনের স্টোভ চুলা, ইলেকট্রিক ও মাটির চুলা, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কেনা শুরু করেছেন। অনেকেই তিন দিনের জন্য আগে থেকে খাবার রান্না করে রাখার পরিকল্পনাও করছেন।

শহরের মুন্সেফপাড়ার বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, তিন দিন কীভাবে যে রান্নাবান্না করবেন, বুঝতেই পারছেন না। কীভাবে কী করবেন, মাথায় আসছে না। হয়তো হোটেলের খাবারের ওপর ভরসা করতে হবে।

শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা অরুণাভ বিশ্বাস ও মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, বাজার থেকে তাঁরা কেরোসিনের স্টোভ চুলা কিনে এনেছেন। সেটা দিয়েই রান্নাবান্নার কাজ করবেন।

কান্দিপাড়া এলাকার গৃহিণী শায়লা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামী শনিবার তিন দিনের আগাম রান্না করে রাখব। আলুভর্তা, শুঁটকিভর্তা, রুটি, ডিমভাজি ইত্যাদি। এসব দিয়েই পরিবারের সবাই মিলে তিন দিন খাব।’

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিন গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজ চলবে। প্রথম দিন সকাল থেকে বিকেল বা সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় গ্যাস থাকবে না। তবে প্রথম দিন বিকেল বা সন্ধ্যার পর পৌরসভা, শিল্প এলাকা ও সরাইল উপজেলায় গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। সর্বোচ্চ দুটি এলাকা সক্রিয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে শহরের পশ্চিম দিকে মূলত কাজ হবে। তাই সেখানে তিন দিনই গ্যাস থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম দিনই বিকেল থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত তাঁরা দুটি এলাকায় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা ও সরাইল) গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন