উৎসবের উদ্বোধন করে সহ–উপাচার্য মোসাম্মাৎ হোসনে আরা বলেন, বিজ্ঞান যারা পড়বে, তাদের মুক্তচিন্তা করতে হবে, যুক্তি দিয়ে সবকিছু প্রমাণের প্রয়াস থাকতে হবে। বিজ্ঞানকে উপভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজকের উৎসবের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান ভীতি কিছুটা হলেও তোমরা কাটিয়ে উঠতে পারবে। বিজ্ঞানের প্রতি তোমরা আরও আগ্রহী হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তোমাদের আরও অধ্যবসায়ী হতে হবে। সময়কে কাজে লাগানো শিখতে হবে।’

বিকাশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এক সমীক্ষায় দেখা গেছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে যেতে চায়। কিন্তু এরপর তারা ট্র্যাক পরিবর্তন করে। এটা আমাদের জন্য একটা ভয়াবহ খারাপ ব্যাপার। কারণ বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞান এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করতে বিকাশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তোমাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক তুহিন রায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম আল মামুন, খুলনা সরকারি আযম খান কমার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অমিত সরদার, খুলনা পিটিআইয়ের ইনস্ট্রাক্টর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গণিত অলিম্পিয়াডের রিসোর্স পারসন সঞ্জয় মণ্ডল, প্রথম আলোর খুলনা প্রতিনিধি উত্তম মণ্ডল, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, সহসম্পাদক উচ্ছ্বাস তৌসিফ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো খুলনা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুম বিল্যাহ।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান সামনে রেখে দেশব্যাপী সাতটি বিভাগীয় শহরে হচ্ছে আঞ্চলিক উৎসব। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি) বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও কুইজ প্রতিযোগিতা—দুই ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবে এ উৎসবে। পরে ঢাকার জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে আঞ্চলিক উৎসবে বিজয়ীরা। প্রতিটি উৎসবের বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। পাশাপাশি আগ্রহীদের জন্য প্রতিটি আয়োজনে থাকছে বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা।

উদ্বোধন শেষে আজ সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীদের কুইজ পরীক্ষা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দুপুরে কুইজ পরীক্ষা ও প্রজেক্টের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।