বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘খাকদোন নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি আমাদের কাছে কোনো ধরনের অনাপত্তির আবেদন করেনি। আমরা সেতু নির্মাণের জন্য কোনো ধরনের অনাপত্তি দিইনি।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাকদোন নদটি পশ্চিমে বিষখালী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বরগুনা শহরের পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে গিয়ে পায়রা নদীতে মিশেছে। ঘটবাড়িয়া বাজার এলাকায় নদটির ২০-৩০ ফুট, আবার কোথাও ১০ ফুট প্রস্থ আছে। দুই পাশ দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে আসা নদটিতে কয়েক দশকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অপরিকল্পিত ২১টি সেতু নির্মাণ করেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, বরগুনা নদীবন্দর সচল রাখতে প্রায় প্রতিবছর সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খাকদোন নদের ছয় কিলোমিটার খনন করে। কিন্তু অব্যাহত দখলের কারণে এই অংশের নাব্যতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে অস্তিত্ব–সংকটের মুখে পড়েছে নদটি।

বরগুনা সদরের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী (৭০) বলেন, ‘বাপ–দাদার কাছে শুনেছি, এই নদ দিয়ে একসময় স্টিমার, লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। এখন এসবই স্মৃতি।’

ট্রলারচালক মো. ভাসানী বলেন, ‘আমরা পায়রা নদী দিয়ে ট্রলার নিয়ে খাকদোন নদের চান্দখালী এলাকায় এসে ধান নিতাম। নদটিতে এত সেতু নির্মাণ করা হয়েছে যে এখন চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। সেতুর নিচ দিয়ে জোয়ারের সময় ট্রলার নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য। আর ভাটির সময় পানি না থাকায় নৌযান চলাচল করতে পারে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, খাকদোন নদটি দখলের কারণে এখন বেশির ভাগ অংশ মৃতপ্রায়। নদটি রক্ষার জন্য পাউবো থেকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ প্রকল্পের আওতায় কেওড়াবুনিয়া থেকে ১০০ ফুট প্রশস্ত করে ১০ কিলোমিটার খনন করে পায়রা নদীর সংযোগস্থল পর্যন্ত নদটি পুনঃখনন করা হবে।

পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, নদটি রক্ষার জন্য পাউবো থেকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুজয় মুখার্জী বলেন, ‘সম্প্রতি যে দুটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয়ের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানে আমাদের স্থানীয়ভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। তাদের সাড়া পেলে এখানে জরিপ হয়। এরপর নকশা হওয়ার পর আমাদের কাছে প্রকল্প ও বরাদ্দ আসে। আমরা কাজ বাস্তবায়ন করি।’