২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান, তাঁর স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে তা গ্রহণ করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত দুদকের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ মামলার পলাতক আসামি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান, তাঁর স্ত্রীসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
গত রোববার আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেয় দুদক। এতে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
দুদক জানায়, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। ওই সময় ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন রুখমিলা জামান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বোর্ড সভায় উপস্থিত থেকে ঋণ অনুমোদনে প্রভাব রাখতেন।
ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের আগের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ইউসিবি ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে নগদে উত্তোলন করা হয়।
দুদকের দাবি, এই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) পাচার করা হয়। পরে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে সম্পদ কেনা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটির তদন্তের সময় রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়। এসব নথিপত্রে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার পরও তাঁরা বিদেশে চলে যান। দুদকের তথ্যমতে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৯টি দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ির তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।