আদালত সূত্র জানায়, আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নুরুল ইসলামকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আইনজীবী মো. আফজাল হোসেনের মাধ্যমে তাঁর জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শংকর কুমার বিশ্বাস জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে নুরুল ইসলামকে রাজশাহী নগরের ভদ্রা এলাকায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ। বিকেলেই তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আজ সকালে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন পুলিশের আদালত উপপরিদর্শক প্রীতিশ কুমার।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ মে বিকেলে নুরুল ইসলামের পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী নাজমা ইসলামের (৫৭) ঝুলন্ত লাশ সিলিং ফ্যান থেকে নামান ভবনের লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নগরের চন্দ্রিমা থানায় সেদিনই একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ঘটনার তিন মাসের বেশি সময় পর এই দম্পতির ছেলে নাফিজ ইসলাম মায়ের হাতে লেখা চিরকুট (সুইসাইড নোট) ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ছবি জুড়ে দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

অন্য নারীর সঙ্গে বাবার সম্পর্ক ও দীর্ঘদিন ধরে চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মা আত্মহত্যা করেছেন দাবি করে ৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন নাফিজ ইসলাম (২২)। পুলিশ মামলা না নিয়ে ঘোরাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা নেয়।

মামলার বাদী নাফিজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষে পড়ছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বাবা প্রায়ই তাঁর মাকে মারধর করতেন, মানসিকভাবে হেয় করতেন। তাঁর মা তাঁদের ভাইবোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব সহ্য করে সংসার করে গেছেন। মূলত তাঁর বাবা নিজের সাবেক প্রেমিকাকে বিয়ে করতে না পারার কারণে তাঁর মায়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে মারধর করতেন। এসব ঘটনা তাঁর ও তাঁর বোনের সামনে অসংখ্যবার ঘটেছে।

এজাহারে নাফিজ আরও উল্লেখ করেছেন, গত ৩০ মে তাঁর মা আত্মহত্যা করেন বলে তিনি শোনেন। তাঁর মায়ের গায়ে সেদিন আঘাতের চিহ্ন ছিল। এজাহারে তিনি মায়ের সুইসাইড নোটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আসামির পরিবারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন