‘যৌতুক না পেয়ে’ বিয়েতে আসেনি বর, প্রতিকার চেয়ে কনের বাবার লিখিত অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

কনের বাড়িতে করা হয়েছিল রঙিন প্যান্ডেল। রান্না শেষে বরযাত্রীদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও বর আসেননি।

কনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে আট লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বরপক্ষ। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বিয়ে করতে আসেননি বর। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে বরের পরিবার।

এ ঘটনায় গত সোমবার কনের বাবা রংপুরের জেলা প্রশাসক ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর দণ্ডের বিধান আছে।

কনের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে। তাঁর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। গত রোববার রাতে বিয়ের দিনক্ষণ ছিল। বরযাত্রী আপ্যায়নের জন্য বাজার, রান্নাবান্না, প্যান্ডেল করাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগে আগে বরপক্ষ জানায়, যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা এবং ঘর সাজানোর জন্য আরও তিন লাখ টাকা দিতে হবে। তা না দিলে বিয়ে হবে না। অনেক অনুরোধ করেও বরপক্ষকে রাজি করানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বর না আসায় বিয়ে হয়নি।

এ ঘটনায় পরিবারটি বিপাকে পড়েছে জানিয়ে কনের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের গায়ে হলুদ মাখানো হয়েছে। এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।’

তবে যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরের বাবা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো এক টাকাও যৌতুক চাইনি। এক লাখ টাকা দেনমোহর করতে বলেছিলাম। কিন্তু কনের পরিবারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর করতে চায়। এ কারণে ছেলে বিয়েতে যায়নি। তবে মেয়ের পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইলে তা দিতে রাজি আছি।’

অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জের ইউএনও মোনাব্বের হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় গত সোমবার দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানালেন। তিনি আশা করছেন, দ্রুত বিষয়টির একটি সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।