লক্ষ্মীপুরে বিদ্যালয় ভবন ভাঙচুর, অনিশ্চিত পাঠদান
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার পালেরহাটে অবস্থিত মডেল একাডেমি বিদ্যালয়। গতকাল বৃহস্পতিবারও বিদ্যালয়ে ক্লাস করে গেছে শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার ছুটির দিন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই দফা হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বিদ্যালয়টিতে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সামনে তাদের বার্ষিক পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।
২০১৪ সালে স্থাপিত মডেল একাডেমি বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ কামাল জানান, তাঁর মা ফাতেমা বেগম ওই জমির মালিক। ওই জমিতে পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন তিনি। কয়েক বছর ধরে তাঁর মায়ের চাচাতো ভাই তোফায়েল আহমেদ, আবু তাহের ও খোরশেদ বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বৈঠক হলেও তোফায়েলরা জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সবশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও একটি বৈঠক হয়। সেখানেও তাঁরা কোনো দলিল দেখাতে পারেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, জমি নিয়ে এ বিরোধের জের ধরে তোফায়েল আহমেদ ও আবু তাহের লোকজন নিয়ে গতকাল গভীর রাতে বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় অফিসকক্ষ, ১০টি সেমিপাকা কক্ষ, ২টি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ, ১টি ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ সব আসবাব ভাঙচুর করেন তাঁরা। পরে পুলিশ আসতে দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর আজ ভোরে আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দলবল নিয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁরা অফিসে থাকা দুটি ল্যাপটপ ও শিক্ষকদের মাসিক বেতনের জন্য রাখা এক লাখ টাকাও নিয়ে যান বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক মোরশেদ কামাল।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক সাইফুল আলম জানান, বিদ্যালয় ভবন ভেঙে তছনছ করে ফেলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। এ অবস্থায় পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে; কিন্তু এ জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, রাতে বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করতে দেখে বাজারের একজন নৈশপ্রহরী ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় মামলা করার জন্য জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।