মমতাজ বেগম বলেন, ‘মেয়ে বাড়িতে এসে আমাকে বলে, “মা আমরা দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছি। তুমি আমাদের এ বিজয়ে খুশি হয়েছো। তোমার দোয়া ছাড়া আমার এ বিজয় সম্ভব ছিল না। আজ বাবা আর আকবর স্যার (সাবিনার কোচ) বেঁচে থাকলে তাঁরা সবচেয়ে খুশি হতেন।”’

আজ সকাল ১০টার দিকে জেলা সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। দেশের গর্ব সাবিনাকে সাড়ে নয়টা থেকেই সেখানে ভিড় জমায় সাতক্ষীরার শত শত মানুষ। পরে বেলা ১১টার দিকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সার্কিট হাউসের সামনে এসে নামেন সাবিনা। এ সময় সার্কিট হাউসের সামনের সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের যানবাহনের প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে সেখানে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনডিসি মো. মহিউদ্দিন ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে সাতক্ষীরা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এরপর সাজানো একটি পিকআপে করে সাবিনাকে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় সড়কের পাশেসহ বাড়ির ছাদে সাবিনাকে দেখতে মানুষের ঢল নামে।

সাবিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। আমার জন্মস্থান সাতক্ষীরা মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। সাতক্ষীরায় জন্ম নিয়ে আমি গর্বিত। আপনারা দোয়া করবেন আমি যেন সাফ জয়ের মতো আরও ট্রফি জয় করে সাতক্ষীরাসহ দেশের সুনাম ধরে রাখতে পারি।’ সাবিনা জানান, আগামী রোববার তিনি ঢাকায় ফিরবেন। এরপর বিদেশে যাবেন খেলতে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, হঠাৎ সাবিনা সাতক্ষীরায় এসেছেন। সাবিনা খাতুন ও মাসুরা পারভীন সাতক্ষীরা তথা দেশের গর্ব। তাঁরা দেশের জন্য সম্মান নিয়ে এসেছেন। সাতক্ষীরা ক্রীড়া সংস্থা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন তাঁদের সম্মান জানাতে চায়। এ জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধাজনক সময়ে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন