নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ বেলা একটার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনেছবি: হাসান আবরার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা এ দাবি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক (ড. এ আর মল্লিক) ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। এ ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, সহ–উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কার্যালয় রয়েছে। কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীরা অবিলম্বে নিয়োগে অনিয়মের দায় স্বীকার করে তাঁদের পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন। না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

বেলা একটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ভবনের মূল ফটকের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হন। পরে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে সহ-উপাচার্য মূল ফটক এড়িয়ে ভবনের এক পাশের সিঁড়ি দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

জানতে চাইলে কর্মসূচিতে থাকা শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের নামে যে স্বজনপ্রীতি হয়েছে, এর দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগ করতে হবে। সহ-উপাচার্যের মেয়ে, শিক্ষকের ভাই, শিক্ষকের শ্যালিকা কিংবা শিক্ষকের জামাতা—কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পান, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নিয়োগে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ ওঠা নিয়োগপ্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান করেছিলাম। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া চালাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি থেকে আপত্তি জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’ একই কথা বলেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘স্বজনপ্রীতি রয়েছে এমন কারও কার্যালয়ে থাকার দরকার নেই।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁরা যে দাবি জানাচ্ছেন, সে বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’