বগুড়ায় রেলস্টেশনে হামলা ও মাস্টারকে মারধর, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ায় স্টেশনে হামলা–ভাঙচুর ও স্টেশনমাস্টারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া রেলওয়ের একজন প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে ওই ঘটনার ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা একটার দিকে সোনাতলা রেলস্টেশনে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের (বাবু) নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর সোনাতলা রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রেলওয়ে, জিআরপি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা স্টেশনের পাশে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। বিষয়টি স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার লিখিতভাবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সোনাতলা রেলস্টেশনের উত্তর পার্শে প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে কে বা কারা অবৈধভাবে পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসাইনের নেতৃত্বে জিআরপি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ের একটি দল আজ দুপুর ১২টার দিকে সোনাতলায় গিয়ে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। দলটি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে রেলওয়ের কাছ থেকে বৈধভাবে জায়গা লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের পরামর্শ দেয়।
সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (বাবু) নেতৃত্বে ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের সামনেই স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা স্টেশনমাস্টারের অফিসকক্ষে ঢুকে তাঁকে কিল–ঘুষি মেরে আহত করেন।আসলাম হোসাইন, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী
আসলাম হোসাইন অভিযোগ করেন, রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে সোনাতলা প্ল্যাটফর্মে আসার সঙ্গে সঙ্গে সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (বাবু) নেতৃত্বে ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের সামনেই স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা স্টেশনমাস্টারের অফিসকক্ষে ঢুকে তাঁকে কিল–ঘুষি মেরে আহত করেন। এ ছাড়া অফিসকক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অভিযানের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করায় অভিযানকারী দলের সঙ্গে থাকা রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেনের ওপরও হামলা চালিয়ে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলা হয়।
সোনাতলা রেলস্টেশনের মাস্টার রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার অফিসকক্ষে ঢুকে কম্পিউটার এবং প্রিন্টার ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া আমার ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে মারপিট করেছে। নিরাপত্তার কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (বাবু) প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ের জায়গায় সরকারি অর্থায়নে পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজ চলছিল। রেলওয়ের লোকজন এসে নির্মাণাধীন টয়লেট ভেঙে দেওয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা প্রতিবাদ করেছেন। কোনো হামলা বা কাউকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযানের সময় সঙ্গে ছিলেন জিআরপি পুলিশের বগুড়া স্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবলুর রহমান। তিনি বলেন, রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে অভিযানককারী দল প্ল্যাটফর্মে ঢোকামাত্র মিজানুর রহমানের (বাবু) নেতৃত্বে ২০-২৫ জন হঠাৎ স্টেশনে হামলা চালান। জিআরপি পুলিশ এবং সোনাতলা থানা–পুলিশ উপস্থিত থাকলেও মব তৈরি করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘রেলস্টেশনে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জিআরপি থানা–পুলিশ।’