খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা নিহত হওয়ার চার দিন পর ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কার জব্দ
সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার নিহত হওয়ার ঘটনায় ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কারটি জব্দ করেছে পুলিশ। শিগগিরই চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, গত ৩০ মার্চ অজ্ঞাতপরিচয় একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার (২৫) নিহত হন। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় ঘাতক গাড়ি শনাক্তে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করা হয়।
এর আগে ওই দুর্ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করেন।
৩০ মার্চ সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মৌমিতা। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালককে গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট গাড়ি জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হয়।
এদিকে গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সংহতি প্রকাশ করে উপাচার্য রেজাউল করিম বলেন, মৌমিতার মৃত্যুর তিন দিন পরও ঘাতক চালক ও গাড়ি শনাক্ত না হওয়া উদ্বেগজনক।
উপাচার্য রেজাউল করিম তখন জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মৌমিতার পরিবার মামলা না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই মামলাটি করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্পিড ব্রেকার মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও অংশ নেন। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নগরে লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিও তোলা হয়।